মো রাসেল কাজী জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী কাঁচা বাজার ‘মোলামগাড়ী হাটে’ আগের তুলনায় কাঁচা সবজির দাম অনেকটাই কমে এসেছে। দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ায় দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালে আসতে শুরু করেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সরেজমিনে মোলামগাড়ী হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে বিভিন্ন ধরনের কাঁচা সবজির প্রচুর আমদানি হয়েছে। বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর পুরো হাট এলাকা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেসব সবজির দাম আকাশছোঁয়া ছিল, বর্তমানে তা অনেকটাই নিম্নমুখী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাটে আলু, বেগুন, পটল, করলা, ঢেঁড়স, কাঁচা মরিচ, লাউ, পেঁপে ও শাকপাতাসহ প্রায় সব ধরনের কাঁচা সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বাজারে বাজার করতে আসা স্থানীয় ক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, “গত বেশ কিছুদিন ধরে সবজি কিনতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছিল। পকেটের টাকা শেষ হয়ে গেলেও বাজারের ব্যাগ ভরতো না। তবে আজকের হাটে দাম আগের তুলনায় অনেকটাই কম। আগে যেখানে আধা কেজি কিনতাম, আজ সেখানে এক কেজি কিনতে পারছি। এই দামটা স্থিতিশীল থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের খুব উপকার হয়।”
অন্যদিকে দাম কমার কারণ হিসেবে বিক্রেতা ও কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠে সবজির ফলন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচা মালের আমদানি বেড়েছে।
মোলামগাড়ী হাটের নিয়মিত সবজি বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, “আশেপাশের গ্রাম ও কৃষকরা এখন সরাসরি হাটে প্রচুর কাঁচা সবজি আনছেন। সরবরাহ বেশি থাকায় পাইকারি বাজারে দাম কমেছে। আমরা কম দামে কিনে সামান্য লাভে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি। দাম কম থাকায় ক্রেতারাও বেশি বেশি সবজি কিনছেন, এতে আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে।”
কালাই উপজেলার অন্যতম বড় এই সবজির হাটে দাম কমার প্রভাব আশেপাশের অন্যান্য ছোট ও খুচরা বাজারগুলোতেও পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজার পরিস্থিতি এমন স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকলে নিত্যদিনের সংসার খরচের চাপ অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

