জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিঙ্গাপুর থেকে ২৭,৫ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি বিদেশি ট্যাংকার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জাহাজটি বন্দরের ডলফিন জেটিতে নোঙর করে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, জাহাজ থেকে তেল খালাস করে সরাসরি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুধু এই একটি জাহাজ নয়, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও তিনটি বড় ট্যাংকার বন্দরে ভেড়ার অপেক্ষায় রয়েছে—
- ১২ মার্চ: ‘এসপিটি থেমিস’ (৩০,৪৮৪ মেট্রিক টন)
- ১৪ মার্চ: ‘র্যাফেলস সামুরাই’ (প্রায় ৩০,০০০ মেট্রিক টন)
- ১৫ মার্চ: ‘চ্যাং হ্যাং হং টু’ (প্রায় ৩০,০০০ মেট্রিক টন)
এর আগে গত সোমবার ‘শিউ চি’ নামের আরও একটি ট্যাংকার ২৭,২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে এসেছিল। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে ৫টি ট্যাংকারের মাধ্যমে মোট ১,৪৪,২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম ও সরবরাহ অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সরকার আগেভাগে ডিজেল আমদানি করছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়টি দেশ থেকে মোট ২৩,২৮,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। দেশের মোট আমদানিকৃত ডিজেলের ৭৮ শতাংশই আসছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আমদানিকৃত ডিজেল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

