মোঃ মিরাজুল ইসলাম, পীরগঞ্জ, রংপুর: ইতিহাসের পাতায় কিছু নাম লেখা হয় কালির বদলে রক্ত দিয়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, যখন বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস অধিকার আদায়ের স্লোগানে উত্তাল, তখন উত্তরবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এলেন তরুণ আবু সাঈদ।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিল পরিবারে নয় সন্তানের মধ্যে মেজো। নিজের পরিবারকে ছাড়িয়ে দেশের প্রতি তার দেশপ্রেম ছিল অশেষ। ১৬ জুলাই, রংপুরের রাস্তায় টিয়ারশেল আর গুলির শব্দে চারপাশে সবাই দৌড়াচ্ছিল, কিন্তু সাঈদ দাঁড়ালেন না। দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে তিনি বললেন—“মারলে আমাকে মারো, আমার ভাইদের নয়।”
অস্ত্রের মুখে বুক পেতে দেওয়া সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল সারা বিশ্বে। পুলিশের বুলেটে তিনি লুটিয়ে পড়লেও, তখন তিনি শুধু একজন ছাত্র ছিলেন না; তিনি হয়ে উঠলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ ও অনুপ্রেরণা। তাঁর আত্মত্যাগ আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল সারা দেশে। যে বুলেটে সাঈদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন, সেটিই একটি নতুন বাংলাদেশের জন্মের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল।
আবু সাঈদ আজ নেই, কিন্তু তিনি জীবিত প্রতিটি তরুণের হৃদয়ে। পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামের সাধারণ মাটির ঘরে জন্ম নেওয়া এই ছেলেটি আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে বীরত্বের নতুন সংজ্ঞা হয়ে আছেন। জুলাইয়ের সেই উত্তপ্ত দুপুরের রোদ সাক্ষী—সাঈদ হারেননি, সাঈদ জিতে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের স্বাধীন নিশ্বাসে।

