আবদুল বাসেদ, নোয়াখালী: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মাত্র ১০ বছর বয়সে ছয় মাসে পুরো কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে আলোচনায় এসেছে শিশু আবু বকর সিদ্দিক। তার এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী আনন্দিত।
সিদ্দিক হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরচেঙ্গা গ্রামের হাজী মুখলেছুর রহমানের ছেলে। তার বাবা-মা মো. বেলাল উদ্দিন ও মোসাম্মৎ আয়েশা ছিদ্দিকা। সে কোম্পানীগঞ্জের দারুল আরকাম মাদরাসার হিফজ বিভাগ থেকে মাত্র ছয় মাসে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিদ্দিকের পরিবারে ৬-৭ জন হাফেজ রয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই কুরআনের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। ২০২৫ সালের শুরুতে তাকে দারুল আরকাম মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি করানো হয়। পরিবারের উৎসাহ এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মাত্র ছয় মাসে সিদ্দিক পুরো কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়।
শিশু হাফেজ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি কুরআন তিলাওয়াত করতে ভালোবাসি। মাদরাসার শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং পরিবারের অনুপ্রেরণায় নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। ভবিষ্যতে আমি একজন বড় আলেম ও দেশবরেণ্য হাফেজ হতে চাই।”
তার বাবা মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, “ছেলের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই কুরআনের প্রতি আগ্রহ দেখেছি। আল্লাহর রহমতে অল্প সময়ের মধ্যে সে পুরো কুরআন মুখস্থ করেছে। একজন বাবা হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। আমি চাই সে ভবিষ্যতে একজন যোগ্য আলেম হয়ে দ্বীনের খেদমত করুক। এজন্য সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই।”
দারুল আরকাম মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান হাফেজ মুহাম্মদ মুনাওয়ার বলেন, সিদ্দিক পরিবারের সহযোগিতা ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা আশা করি সে ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে ইসলামের খেদমত করবে।
মাদরাসার সহকারী মুহতামিম মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, “সিদ্দিক খুব মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছাত্র। নিয়মিত অধ্যবসায়ের কারণে সে অল্প সময়ের মধ্যে কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও তার এই সাফল্যে আনন্দিত।”

