গৌরব সাহা, নরসিংদী: নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাও।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম মাধবদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন বখাটে কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। স্থানীয় মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান ঘটনার বিচার করার দায়িত্ব নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। এছাড়া ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়।
ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি ভিকটিম কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় গণধর্ষণের পর হত্যা করে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেতেতে ফেলে রাখে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা মেয়েকে খালার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পাঁচজন যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির পর মরদেহ না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সরিষা ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মহিষাশুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব এবং এবায়দুল্লাহ।
ওসি আরও জানান, বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

