আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি | বিডি টাইমস নিউজ ২৪:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামে একসময় মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পালনের প্রধান স্থান ছিল মা ফাতেমার দরগা ও পাগলা পীরের দরগা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে ওই এলাকায় কোনো মসজিদ না থাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ শবে কদর, শবে বরাত, শবে মেরাজসহ ঈদের নামাজ আদায় করতেন এই দুই দরগা প্রাঙ্গণে।
স্থানীয়দের মতে, মোঘল আমলের ইট দিয়ে নির্মিত ছিল দরগা দুটি। মুসলমানরা এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতেন এবং অনেকেই মানত করে সিরনি দিতেন। দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল ওই এলাকার মুসলমানদের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
দরগা দুটি হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামে অবস্থিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ১৯৯০-এর দশকে স্থানীয় মুসলমানরা এলাকায় মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে সবাই মসজিদমুখী হয়ে পড়েন এবং ধর্মীয় উৎসব ও ইবাদত মসজিদকেন্দ্রিক হয়ে যায়। ফলে দরগা দুটি ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে থাকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ফাতেমার দরগার ওপর একসময় বিশাল একটি বটগাছ ছিল, যার শিকড় পুরো দরগাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল। আর পাগলা পীরের দরগার ওপর ছিল একটি ছোট কাঁঠালি গাছ, যা এখনো রয়েছে।
২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়ে সেই বিশাল বটগাছটি। গাছটি পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মা ফাতেমার দরগা। তবে পাগলা পীরের দরগা অক্ষত থাকে। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে দুঃখের ছায়া নেমে আসে।
বর্তমানে কিছু সনাতন ধর্মাবলম্বী মনে করেন, এটি হয়তো কোনো মন্দির ছিল। তবে স্থানীয় প্রবীণদের দাবি, এটি আসলে মা ফাতেমা ও পাগলা পীরের দরগা, যেখানে মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতেন।
দীর্ঘদিন ধরে দরগাটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্থানীয়ভাবে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এলাকাবাসীর আশা, সরকার উদ্যোগ নিয়ে যদি এটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করে, তাহলে এলাকার ঐতিহ্যবাহী সেই পুরোনো উৎসব ও স্মৃতিগুলো আবারও ফিরে আসবে।
আজিজুল ইসলাম

