5169
Loading ...

অনন্য এক তারেক রহমান !

লেখকশরিফুজ্জামান চৌধুরী তপনঃ ভেনি ভিডি ভিসি (I CAME, I SAW, I CONQUERED) এলেন, দেখলেন, ও জয় করলেন। রোমান সাম্রাজ্যের শাসনকর্তা জুলিয়াস সিজারের এই বিখ্যাত উক্তিটি যেন ২৫শে ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন করা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভূমিপুত্র তারেক রহমানের জন্যই সত্যিকার অর্থে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ যার বহুল কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্বের অপেক্ষায় ছিল, যিনি নিজেকে তিলে তিলে তৈরি করেছেন—আজকের অবস্থানে তিনি বাংলাদেশের জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী।

কি বিশেষণ দেওয়া যায়—না দেখলে, সংস্পর্শে না গেলে বোঝার কোনো উপায়ই নেই তিনি কতটা কর্মবীর, কতটা পরিচ্ছন্ন, দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী একজন মানুষ। আমার দেখা-শোনা অনেক কাহিনি, বিগত সতেরো বছর তার নৈকট্যে যাওয়া মানুষদের কাছ থেকে আমার শোনা কিছুটা, নিজের দেখার সুযোগ হয়েছে। এই সব টুকরো টুকরো স্মৃতিকথা নিয়ে আমার এই লেখাটি আমার প্রিয় নেতাকে নিয়ে।

সর্বপ্রথম যেটি বলতে হয়, তিনি অত্যন্ত কোমল মনের অধিকারী। যদিও সহজে ভেঙে পড়ার মানুষ তিনি নন, কিন্তু সংবেদনশীল; প্রকৃত অর্থেই মানবিক। মানুষের দুঃখ-কষ্টে তিনি চুপ থাকেন না, কিন্তু বাস্তবসম্মত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে মুহূর্তের দেরি করেন না। আমাদের ছোটবেলায় ইংরেজি সাহিত্যে পড়া “থ্রি কোয়েশ্চন”-এর একটির উত্তর ছিল—“নাউ ইজ দ্য মোস্ট ইম্পরট্যান্ট টাইম টু স্টার্ট।” তিনিও যেন ভালো কিছু শুরু করার ক্ষেত্রে এরকমই; কালক্ষেপণে বিশ্বাসী নন, শুরু করে দেন।

নির্বাসন জীবনের প্রতিটি সময়ে নিজের দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দেননি। তিনি তাঁর ধ্যান-জ্ঞান যখনই সুযোগ পেয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কি করণীয়, কী করলে মানুষের জীবনমান উন্নত হবে, মানুষ ভালো থাকবে—সেটাই তিলে তিলে রপ্ত করেছেন। তাঁর পারিবারিক শিক্ষা—প্রেসিডেন্ট-পুত্র হয়েও অতি সাধারণ বেশভূষা—সেই ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন।

তাঁর অতি কাছের একজন মানুষ যখন প্রথম লন্ডনে আসলেন, আমাকে একদিন বললেন, আমাদের নেতা তো গরিব—ওনার তো কিছুই নেই, পৈতৃক বাড়ি বাগবাড়ীর সেই অতি সাধারণ বাড়িটি ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও তাঁর কোনো বাড়ি নেই। কিন্তু তিনি চাইলেই পৃথিবীর যেকোনো দেশে, যেকোনো শহরে বাড়ি, ভিলা—সবই কিনতে পারতেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছিল, যা এখনো ক্ষেত্রবিশেষে এক গ্রুপ থেকে অন্য গ্রুপের মুখে শোনা যায়, তা যে শতভাগ মিথ্যা—এই নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

যে একটি ভবন নিয়ে অপপ্রচার—সেই ভবনে তিনি কী করেছিলেন, সেটা যারা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছিলেন তারা জানতেন। কিন্তু আত্মপ্রচারবিমুখ নেতা ও তাঁর কর্মীবাহিনী—নতুবা যে ভবনটি ছিল আরো ২৫ বছর আগে একটি অত্যাধুনিক সেন্টার, যেখানে রাজনীতির কৌশল, সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচন, জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে নিরলস কাজ করার পরিকল্পনা তৈরি হতো—তা নিয়ে অকল্পনীয় মিথ্যাচার হয়েছে।

এই ভবনের প্রত্যেকটি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়া হয়েছিল। ১/১১-পরবর্তী মঈন-ফখরের সরকার কিছুই পায়নি। এ প্রসঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে একটি সুযোগ হয়েছিল নেতার নিজ মুখ থেকে শোনার। আমাকে নেতা বলেছিলেন, সেই ভবনটিতে একটি লাইব্রেরি ছিল, যেখানে পাঠ করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। যারা বদনাম করতে চান, নানা ভাবে তারা সেটা করতে পারেন। কিন্তু এই ভবনটির মালিক ছিলেন সিলেটের এক লন্ডনপ্রবাসী। তিনি নিজেও একটি টিভি ইন্টারভিউতে বলেছেন, এই ভবনটিতে মূলত রিসার্চ ও গবেষণাধর্মী সাংগঠনিক কাজ করা হতো এবং যতদিন তারেক রহমান সাহেব মুক্ত ছিলেন, শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বাড়ি ভাড়া সহ সব কিছুই পরিশোধ করেছেন। কোনো দিন কোনো অনিয়ম তিনি কিছু পাননি।

মানুষ যারা তাঁর সান্নিধ্যে গিয়েছে, তাদের অনেকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যেমন, সর্বপ্রথম এ দেশে তিনি আসার পর এক ভদ্রলোক রান্নাবান্নার কাজ করতেন। তিনি সেই সময় ইস্ট লন্ডনে প্রায়ই শুক্রবারে আসতেন। ওনার সঙ্গে আমার কথা হতো জুম্মার পর। আমি জিজ্ঞেস করতাম তিনি কি খেতে পছন্দ করেন। তিনি বলতেন—অতি সাধারণ, এবং পরিমাণে খুবই সামান্য; দেশি শাক-সবজি, লেবু। তখন ইস্ট লন্ডন থেকে তিনি নিয়ে যেতেন, বা সেই সময়ে যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তারা বাজার করে নিয়ে যেতেন।

নেতা সুদীর্ঘ দিন লন্ডনে থাকার পরও বাঙালি পুরুষদের চিরদিনের পছন্দের লুঙ্গি তিনি পছন্দ করেন, স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন লুঙ্গি পরতে। আমি দেখতাম ম্যাডাম জাকির নামের একজন এডভোকেট এক সময় লন্ডনে আসতেন। তিনি লন্ডনে আসলে ম্যাডাম জাকিরের সঙ্গে লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, দেশি খাবার পাঠাতেন—যেটুকু সম্ভব হতো।

একদিন আমি একজনের সঙ্গে ইস্ট লন্ডনে বসা সেই ভদ্রলোককে নেতা ফোন দিলেন। সেই ভদ্রলোক আমাকে নিয়ে একটি কাপড়ের দোকানে ঢুকে খোঁজলেন সাদা লুঙ্গি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লুঙ্গিটি কি নেতার জন্য? তিনি সম্মতিসূচক উত্তর দিলেন। আমি বললাম, লুঙ্গির দামটা কি আমি দিতে পারি? তিনি বললেন, তিনি যে কিনে নিচ্ছেন, সেটা তাঁরও দেওয়ার ক্ষমতা নেই অনুমতি ছাড়া। নেতা তাকে সেই টাকা দেবেনই; নতুবা সেটা তিনি নেবেন না।

একবার নেতার সঙ্গে দেখা করার জন্য ডাক পেলাম। চিন্তা করলাম, কিছু একটা নিয়ে যাই। আমার স্ত্রী ভালো পায়েস বানান। সম্ভবত রমজান মাস ছিল, বা ঈদের পরপরই ছিল। আমি এক বাটি পায়েস অতি যত্ন করে নিয়ে গেলাম। যখন আসার সময় দিতে গেলাম, তিনি বললেন—এবার নিয়ে যাচ্ছি, যেহেতু আপনার স্ত্রী কষ্ট করে তৈরি করে দিয়েছেন; কিন্তু অন্য কোনো সময় আর আনবেন না।

তবে পরবর্তী সময়ে আরেকবার ম্যাডামের উপস্থিতিতে নেতার বাসায় সেই আদেশ আমি অতি স্নেহে ভেঙেছি। এতে যেটি বুঝলাম—তিনি স্নেহপ্রবণ এবং নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত।

অনেক সময় নানা সীমাবদ্ধতায় হয়তো আমাদের সঙ্গে সেরকম যোগাযোগ হতো না। ১৬/১৭ বছর পর লন্ডনের নেতাকর্মীদের ঈদ করতে হয়েছে নেতাকে ছাড়া। দেখা হোক বা না হোক—একই শহরের আকাশের নিচে আমরা অনেক বছর ঈদ করেছি। তবে ঈদের সময় অনেকে যেতেন, একসঙ্গে নামাজ পড়তেন, ঈদের কোলাকুলি করতেন—এটাও অনেক আনন্দের ছিল।

শুক্রবারে মসজিদের জুম্মার নামাজে অনেকেই নেতার সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে এসে নামাজ আদায় করতেন। অনেক সময় প্রচণ্ড ভিড় হতো। এক সময় মসজিদের অন্যান্য মুসল্লিদের অসুবিধা হবে—এই কারণে নেতা কিংস্টনের সেই মসজিদে না গিয়ে অন্য মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেন।

যেদিন প্রফেসর ইউনুসের সঙ্গে পার্ক লেনে নেতার বহুল আকাঙ্ক্ষিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, সেদিন তিনি রিজেন্টস পার্ক মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। এসব জায়গায় নেতার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সঙ্গে থাকতেন। তাদের মধ্যে জনাব কামাল উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহমান সানি, জনাব এনায়েত চৌধুরীর মতো বিশ্বস্তরা থাকতেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান—বিয়ে, শাদি বা জানাজার নামাজে নেতা সম্ভব হলে অংশ নিতেন। এসব জায়গায় প্রচুর নেতাকর্মীদের ভিড় হতো।

গত বছর ডিসেম্বরে ২৫ তারিখ নেতা সপরিবারে দেশে চলে যান। যাওয়ার পূর্বে একটি বিদায়ী সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টার ওপর যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটাই আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর সরব উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি করে চলেছেন। এ যেন এক ভিন্ন তারেক রহমান।

ঢাকার মাটিতে নেমে খালি পায়ে মাটির স্পর্শ নেন, মুষ্টিবদ্ধ হাতে মাটি ছুঁয়ে যেন তিনি ১৮ কোটি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে দেশমাতৃকার জন্য নতুন কর্ম খুঁজে নেন। এবং সেদিনের সেই ঐতিহাসিক ১৭ মিনিটের ভাষণে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন—তিনি প্রথাগত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে এসেছেন।

তাঁর জন্য নির্ধারিত চেয়ারে তিনি বসেননি; তিনি অতি সাধারণ চেয়ারে বসে নিজের নতুন অবস্থানকে জানিয়ে দিয়েছেন। সেই শুরু—একের পর এক প্রথা ভেঙে তিনি শোকের সাগরে মা-কে হারিয়েও পথচ্যুত হননি। বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন।

ভাবা যায়—ভাই হারিয়েছেন নির্বাসিত জীবনে, দেশে ফিরে মা-কে হারিয়েছেন। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। মা হারানোর ছয় সপ্তাহ পর জাতীয় নির্বাচনের জন্য ছোটেন। সারা দেশে ৬৪টি জনসভা, অসংখ্য পথসভা—তিনি সারা দেশজুড়ে করেছেন। ক্লান্তি, শোক, চোখের নোনা জল—সবকিছু যেন হিমালয়ের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে তিনি মানুষের ভালোবাসা পেয়ে অসাধারণ এক যুদ্ধ জয় করেছেন।

তিনি যে দেশ থেকে ১৭ বছর দূরে ছিলেন, সেটা তাঁর এই কর্মযজ্ঞ দেখে মনে হয়নি। আমি অন্তত দুটি সভায় অংশগ্রহণ করেছি। তাঁর সময়ানুবর্তিতা, সবার প্রতি দায়বদ্ধ আচরণ, আবেগ ও বিবেকের সংমিশ্রণ—অন্য আবহ তৈরি করেছে।

মৌলভীবাজারের জনসভায় সামনের সারিতে সবার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সর্বশেষ আমার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—“আরে, তোমার বাড়ি কি মৌলভীবাজার?” এত ভিড়ের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের সেই কথাটি আমার নির্বাচনী প্রচারণায় যে শক্তি যুগিয়েছে, তা অভাবনীয়।

আরেকটি কাজ করলেন—আমাদের মৌলভীবাজারের শফিক ভাইকে স্টেজে ডেকে নিয়ে নিজের আসনে বসিয়ে দিলেন। প্রশ্ন করলেন। আমার স্মৃতিপটে ভেসে উঠল শহীদ জিয়াউর রহমানের কন্টিনালা খাল খননের দৃশ্য। আমি স্কুল থেকে সেই খাল খননে অংশ নিয়েছি। শহীদ জিয়া খাল খনন কর্মসূচি শেষে পায়ে হেঁটে সাগরনাল ফরেস্ট বাংলোতে গিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক দিনের মতো আমাদের মাঝে যেন আরেক জিয়াউর রহমান ফিরে এসেছেন।

যে প্রতিকূল পরিবেশে তারেক রহমান নির্বাচন করেছেন, সেটা সবচেয়ে বেশি তিনি উপলব্ধি করেছেন। ৫ই আগস্টের পর তিনি বলেছেন—এই নির্বাচন সবচেয়ে কঠিন হবে, সহজ হবে না। কারণ তিনি অনুধাবন করেছেন যে অদৃশ্য প্রতিকূলতা, গুপ্ত সুপ্ত ভেকধারী সুশীল-কুশীলবদের মোকাবিলা করতে হবে।

এবং আসলেই সেটা ধারণার চেয়েও বেশি মোকাবিলা করতে হয়। এই ঘামঝরানো প্রতিকূল পরিবেশকে অনুকূলে নিয়ে আসতে বীর সিপাহসালার তারেক রহমান যেন আরেক মুক্তিযুদ্ধের মতো বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন—মহান আল্লাহর দয়ায়, মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থনে।

নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেই কৃচ্ছতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। গাড়িবহর কমিয়ে দেন, নিজস্ব পরিবহন ও নিজ খরচে চলাফেরা করেন। কোনো প্রটোকল নেই—জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে চলাচলে বিশেষ সুবিধা নিয়ে তিনি চলেন না। অফিসে তিনি সবার আগে উপস্থিত হন।

রাষ্ট্রীয় সুবিধায় চলে আসা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি, প্লট—নেবেন না বিএনপির সংসদ সদস্যরা। এতে রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা শুরুতেই সাশ্রয় হয়েছে। অতি সম্প্রতি বিদ্যুৎ খরচে সাশ্রয়ের উদ্যোগও শুরু করেছেন।

এই যে জনকল্যাণমূলক কাজে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন—পায়ে হেঁটে সেদিন সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠান থেকে তিনি ফিরে আসেন। সেটাই তাঁর সুউচ্চারিত “আই হ্যাভ এ প্ল্যান”-এর অংশবিশেষ।

তারেক রহমান সুদীর্ঘ দিনের রাজনীতির যে কিছু পুরোনো ধ্যানধারণা—যেমন ট্রাফিক সিগন্যালের রেড লাইট জ্বলে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর নিয়ে চলে যাবেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে যাওয়া-আসার সময় বিমানবন্দরে মন্ত্রিপরিষদ, উচ্চপদস্থ আমলারা গিয়ে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও সময় নষ্ট করার রীতি—এসব তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেছেন।

মানুষ চায় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় অহেতুক ভিড় করে লটবহর নিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধ হোক। অতীতে দেখা যেত বিভিন্ন দলীয় ও স্তাবক শ্রেণীর কতিপয় লোকজন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপ্রয়োজনীয় অপচয় করেছেন—সেটা মানুষ পছন্দ করে না।

জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এ পর্যন্ত এই কয়েক সপ্তাহে তিনি যেসব কাজ করেছেন, মানুষ এখন আশা করে—তিনি এ দেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করবেন, যেখানে শাসক হবেন খাদেম। এ যেন জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস—এর বাস্তব প্রতিফলন।

খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারেক রহমান সূচিত বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ নিয়ে তিনি এগিয়ে যাবেন। আমরাও সেই যাত্রায় সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যুক্ত থাকব এবং জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *