এমরান হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুরে এক গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছে।
মঙ্গলবার ( ৩ মার্চ) দুপুরে জামালপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবূনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় প্রদান করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ঝাউডাঙ্গা গ্রামের মো. মাহমুদ আলীর ছেলে মো. সোহেল মিয়া (৩০), মৃত নাদু’র ছেলে ও সোহেল মিয়ার পিতা মো. মাহমুদ আলী (৫৩) এবং মো. মাহমুদ আলী’র স্ত্রী ও সোহেল মিয়ার মাতা মোছাঃ ধলি বেগম (৪৮)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক পি.পি. জানায়, সোহেল মিয়া ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর একই উপজেলার কোলাকান্দা গ্রামের মো. ফজলুল হকের ২১ বছরের মেয়ে ফাহিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সোহেল ৩ লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য ফাহিমাকে নির্যাতন করতেন। টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায়, দোষী ব্যক্তিরা ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর তারিখে তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। এর ১৫ দিন পর ফজলুল হক নির্যাতনের ঘটনা জানতে পারেন এবং তার আহত মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি ২০২২ সালের ০৭ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পায় এবং অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম ৯ জন সাক্ষী এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করে তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। এসময়ে মো. সোহেল মিয়াকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১১ (গ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার পিতা মো. মাহমুদ আলী ও মাতা মোছাঃ ধলি বেগমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই জরিমানার টাকা ভিকটিম প্রাপ্ত হবেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এডভোকেট মো. ফজলুল হক পি.পি. এবং আসামী পক্ষে এ্যাডভোকেট মো. মোবারক হোসেন মামলার শুনানি করেন।

