5169
Loading ...

রাবিতে ভোক্তা-অধিকার আইন নিয়ে ক্যাব রাজশাহীর সচেতনতামূলক সভা

সিহাব আলম সম্রাট, রাজশাহীঃ ভোক্তা-অধিকার সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দিতে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী শাখার উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে এক সচেতনতামূলক সভা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্যাব রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। ক্যাব ইয়ুথ রাজশাহীর সভাপতি জুলফিকার আলী হায়দারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, জনপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. পারভেজ আজহারুল হক এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহীর বিভাগীয় উপপরিচালক ইব্রাহিম হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন,
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ কোনো সাধারণ আইন নয়; এটি ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। একজন নাগরিক যখন পণ্য ক্রয় করেন, তখন তিনি শুধু ভোক্তা নন—তিনি অধিকারসম্পন্ন একজন সচেতন নাগরিক। শিক্ষার্থীরা আজকের ভোক্তা এবং আগামীর নীতিনির্ধারক। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই এ আইন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। বাজারে ভেজাল, প্রতারণা, ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের মতো অনিয়ম রোধে নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথি ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন,
সচেতন ভোক্তা মানেই দায়িত্বশীল সমাজ। শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত থাকে, তবে তারা পরিবার ও বৃহত্তর সমাজকে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি বলেন, কেবল আইন প্রণয়ন করলেই হবে না—আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণই পারে একটি সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রফেসর ড. পারভেজ আজহারুল হক বলেন,
ভোক্তা-অধিকার বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গেও জড়িত। তরুণ প্রজন্মকে আইনি কাঠামো সম্পর্কে জানাতে হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সমাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুদৃঢ় হবে।

বিভাগীয় উপপরিচালক ইব্রাহিম হোসেন বলেন,ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এ ভেজাল পণ্য বিক্রি, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। যে কোনো ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দাখিল করে আইনানুগ প্রতিকার পেতে পারেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অন্যায় দেখলে নীরব না থেকে সাহসের সঙ্গে অভিযোগ জানাতে হবে—কারণ সচেতনতার মাধ্যমেই অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সভায় ভোক্তাদের অধিকার, প্রতিকার পাওয়ার উপায় ও অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন বক্তারা। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ ভোক্তা-অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং সচেতন নাগরিক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *