মোঃমাসুদ রানা,
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সবুজে ঘেরা শান্ত জলরাশি, চারপাশে উঁচু গাছপালা আর নীরব পরিবেশ এভাবেই আজও নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে শত বছরের পুরোনো ‘পরীর দিঘী’।
দিঘীটি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে আরধী পাড়া দিঘীর পার অবস্থিত।স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি জলাশয় নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য, ইতিহাস আর আবেগের অংশ।
জানা যায়, প্রায় একশ বছর আগে অলৌকিকভাবে এক রাতেই পরীরা এই দিঘীটি খনন করে।দাদা পরদাদা ওনারা বলে এসেছেন এই দিঘীটি এক আধ্যাত্মিক অধ্যায়।আবার অনেকে বলেছেন বহু বছর আগে এই দীঘি থেকে রাতের আঁধারে বিয়ের ডেকোরেশন এর আসবাবপত্র, ডেক,প্লেটসহ আরো অনেক কিছু উঠে আসতো।অনুষ্ঠান শেষে সবকিছু একত্র করে আবার দিঘীর পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো।
দীর্ঘ সময় ধরে এটি স্থানীয় মানুষের পানির চাহিদা পূরণ, সেচকাজ ও দৈনন্দিন ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিঘীর চারপাশে গড়ে উঠেছে ঘন সবুজ বৃক্ষরাজি, যা জায়গাটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।
বর্তমানে ‘পরীর দিঘী’ স্থানীয়দের অবসর কাটানোর অন্যতম স্থান হচ্ছে মসজিদের ঘাটলা।সকাল অথবা বিকেলে মৃদু ঠান্ডা বাতাসে এই ঘাটলায় বসে দিঘীটির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
প্রতিদিন সকাল-বিকেলে অনেকেই এখানে হাঁটতে আসেন, কেউ বসে গল্প করেন, আবার কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটান। দিঘীর শান্ত জলে গাছের প্রতিচ্ছবি মনকে দেয় প্রশান্তি।
তবে স্থানীয়রা জানান, দিঘীর সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ উদ্যোগ। জলজ আগাছা পরিষ্কার, পাড় সংরক্ষণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিলে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধনে ‘পরীর দিঘী’ আজও সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও উদ্যোগে এটি হতে পারে এলাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

