সাইয়্যিদুজ্জামান সাদ, কুড়িগ্রাম: উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। সম্প্রতি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ড. আতিক মুজাহিদ।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভালো কোনো চিকিৎসা সুবিধা নেই।” তাঁর এই মন্তব্য জেলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু সেই অনুপাতে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ড. আতিক মুজাহিদ বেশ কিছু সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন।
তার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বেশ কিছু মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর টয়লেট ও মেঝের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এতে রোগীদের সুস্থ হওয়ার বদলে আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওষুধের সংকটও রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বরাদ্দ থাকলেও অনেক সময় হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না।
ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “একটি জেলার প্রধান হাসপাতালে যদি ন্যূনতম পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? কুড়িগ্রামের মানুষকে অবহেলার এই চিত্র মেনে নেওয়া যায় না।”
হাসপাতালটির আরেকটি বড় সমস্যা হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব। গুরুতর রোগী এলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষায়, এই ‘রেফার সংস্কৃতি’র কারণে মাঝপথে অনেক রোগী অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান। বিষয়টি বন্ধ করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালেই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান ড. আতিক মুজাহিদ।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে জেলার সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালকে একটি কার্যকর সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক।

