5169
Loading ...

ধর্ষণ ইস্যু: প্রধানমন্ত্রীকে মুন্সিগঞ্জের পক্ষে স্মারকলিপি, দাবি না মানলে হাইওয়ে অবরোধের হুঁশিয়ারি

মোঃমাসুদ রানা,
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

ধর্ষণের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রায় নিশ্চিত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ‘মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা’।

দাবি আদায় না হলে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য জমা দেয়া এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।

এতে মুন্সিগঞ্জ জেলার ২০টিরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় ছয় বছরের শিশু তাহিয়া তাসনিম এবং নরসিংদীর ১৫ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দেশজুড়ে শিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ কাচারি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও পথসভা করে এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা। তবে ওই কর্মসূচির পরও দেশে নতুন করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

এ অবস্থায় ধর্ষণের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলো হলো—ধর্ষণের সব মামলা বাধ্যতামূলকভাবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনা, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করে রায় ঘোষণা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করে আগামী এক মাসের মধ্যে সংসদে এ সংক্রান্ত আইন পাস করা।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আগামী এক মাসের মধ্যে এসব দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মুন্সিগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচেতন জনগণ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

প্রয়োজনে শ্রীনগর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং গজারিয়ায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক একযোগে অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *