মোঃমাসুদ রানা,
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ও মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি হলেও বাস্তবে এই দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগের চিত্র ভিন্ন। একসময় নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রায় পোড়াগঙ্গা খাল ও আশপাশের খালপথে ট্রলার ও নৌকাই ছিল ভরসা। সময় বদলেছে, কিন্তু সড়ক যোগাযোগের অভাবে দুই ইউনিয়নের মানুষের দূরত্ব যেন কমেনি।
দুই গ্রামের মাঝখানে একটি সরু কাঁচা রাস্তা আছে। তবে সেটি ভাঙাচোরা, খানাখন্দে ভরা এবং বর্ষাকালে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। মাঝখানে একটি বিল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বর্তমানে দুটি এলাকায় যাতায়াত করতে হলে ইছাপুরা হয়ে প্রায় ছয়- সাত কিলোমিটার ঘুরতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, পুরো দুই কিলোমিটার নয়, মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত ও পাকা করা গেলে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু রাস্তার অংশ দুই ইউনিয়নের সীমানায় পড়ায় সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
শিক্ষা খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। জৈনসার গ্রামে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় নেই। ফলে কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। আগে শিক্ষার্থীরা ইছাপুরা উচ্চ বিদ্যালয়-এ পড়াশোনা করত। বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার পর ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি চালু হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী সুযোগ পাচ্ছে না। অন্যদিকে, মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে মধ্যপাড়ায় একাধিক মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও নিরাপদ ও উপযোগী সড়ক না থাকায় জৈনসারের শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি হতে পারে না।
বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও যুক্ত হয়। ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় দুই থেকে তিন মাস দূরের শিক্ষার্থীরা রসুলপুরের ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে পারে না। ফলে শিক্ষাজীবনে অনিয়ম ও ঝরে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সড়কটি রসুলপুরের সাথেও যুক্ত।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। বিল এলাকায় উৎপাদিত আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে। মধ্যপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা নিয়মিত ভূমি সংক্রান্ত কাজে জৈনসার ভূমি অফিসে আসেন। উন্নত সড়ক হলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।
এ ছাড়া সড়কটি চালু হলে জৈনসারের মানুষ মধ্যপাড়া হয়ে মালপদিয়া, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সুবচনী ও আদাবাড়ী হয়ে বালিগাঁও পর্যন্ত সহজে যাতায়াত করতে পারবে। একইভাবে মধ্যপাড়ার মানুষ জৈনসার হয়ে নওপাড়া, ভবানীপুরসহ লৌহজং উপজেলায় যেতে সুবিধা পাবে। এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে দেড় কিলোমিটার এই সড়কটি বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষা, কৃষি ও প্রশাসনিক সেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। সামান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নই দুটি ইউনিয়নের মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

