ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা সংসদ (ববিচাস) আয়োজিত সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘সেইলর প্রেজেন্টস মাঘ মল্লার ২.০’ সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও অনুষ্ঠান-পরবর্তী সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে চারুকলা সংসদ।
গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান ও কার্যক্রম চলতে থাকায় আবাসিক হলসংলগ্ন এলাকায় কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ছাত্রদল ও চারুকলা সংসদের অংশগ্রহণে ঘটনাটিকে ‘মব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে একটি মববিরোধী প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উল্লেখ্য, এর আগেও উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে সমালোচনা থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
চারুকলা সংসদের পক্ষ থেকে প্রক্টর অফিসে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, অছাত্র ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি দল লাঠিসোটা ও রড হাতে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মব তৈরির চেষ্টা করে, যা ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— সাজেদুল ইসলাম (২০১৭–১৮ সেশন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা), ফয়সাল বাদশা (২০১৮–১৯ সেশন, বোটানি), রফিক (২০১৮–১৯ সেশন, রসায়ন), মেহেদি (২০১৯–২০ সেশন, লোক প্রশাসন), আবদুল আলিম (২০২০–২১ সেশন, রসায়ন), ইমাম হাসান (২০২১–২২ সেশন, ইংরেজি), তানজিল আহমেদ রাকিব (২০২১–২২ সেশন, একাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম) এবং এস এম ওয়াহিদুর রহমান (২০১৬–২০ সেশন, আইন)সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
চারুকলা সংসদ মনে করে, এ ধরনের মব সৃষ্টির চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চা, শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তাই ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।

