কুবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে এ নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার এবং সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শোক ও নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা গেছে যে গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর আঘাতে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উক্ত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু, কিশোরী ও নারীদের ওপর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দীন বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাই এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার জায়গায় এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকে আরও সচেতন হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন জরুরি, তেমনি মানুষের মনস্তত্ত্ব কীভাবে অপরাধপ্রবণতার দিকে ধাবিত হয় সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে তাই যৌথ উদ্যোগ দরকার।
শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনার নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক থাকেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও একজন সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনি অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তার নিজ কার্যালয়ে একই বিভাগের কর্মকর্তা ফজলুর রহমান ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। পরে তিনি লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

