5169
Loading ...

বেগম রোকেয়াকে অবমাননার ঘটনায় বেরোবি কর্তৃপক্ষের তীব্র নিন্দা

বেরোবি প্রতিবেদক: পারভেজ হাসান

সম্প্রতি নারী জাগরণ ও সমাজ সংস্কারের অগ্রদূত মহীয়সী নারী রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ‘কাফির-মুরতাদ’ মন্তব্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। রোকেয়ার মত আলোকিত মানুষ সম্পর্কে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এমন মন্তব্যে বেরোবি প্রশাসন গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করছে। বাঙালি নারীজাগরণ, নারীশিক্ষা বিস্তার, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং আধুনিক সমাজে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় রোকেয়া যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর প্রতি এমন অবমাননাকর মন্তব্য সমগ্র নারীমুক্তি আন্দোলনকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি দায়িত্বহীন অবস্থান।

মহীয়সী রোকেয়া তাঁর সমগ্র জীবন অতিক্রান্ত করেছেন সমাজের পশ্চাৎপদতা, কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, পণ প্রথা এবং নারীর অধীনস্ত অবস্থানের বিরুদ্ধে কলম ও সংগ্রামের মাধ্যমে। ‘মতিচূর’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’, ‘অবরোধবাসিনী’ বা ‘পদ্মরাগ’— যে কোনো কীর্তিতেই তিনি মানুষ ও মানবতার পক্ষে যুক্তি, প্রগতি, মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্কতার শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। রোকেয়ার চিন্তা, দর্শন কখনই ইসলাম কিংবা ধর্মীয় মৌলিক নীতিমালার বিপক্ষে ছিল না। তিনি ইসলামী অনুশাসনের মধ্যে থেকেই নারীদের অধিকারের কথা বলেছেন। রোকেয়া নিজে একজন “প্র্যাকটিসিং মুসলিম” ছিলেন বলে তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন। এমন একজন আলোকবর্তিকাকে ‘মুরতাদ’ বা ‘কাফির’ আখ্যা দেওয়া কেবল অবমাননাকরই নয়; এটি সমাজে বিদ্বেষ ও নারীর অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি অপচেষ্টা এবং দেশীয় আইনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বেগম রোকেয়ার আদর্শ ও স্মৃতিকে ধারণ করেই উত্তর জনপদে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর নামকরণ করা হয় । শিক্ষা, গবেষণা ও মুক্তজ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর অত্যন্ত মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘রোকেয়া দিবস’ পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা তাঁর আদর্শকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। দেশের নারী উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধ এবং প্রগতিশীল সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, সমাজে তার বাস্তব প্রতিফলনের লক্ষ্যেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।

বেরোবি প্রশাসন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনসহ সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছে, ঘটনাটি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মান ও মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষাঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করছে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের অনভিপ্রেত মন্তব্য করতে উৎসাহিত না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *