রুশাইদ আহমেদ, বেরোবি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বুধবার (০৫ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এবং সংস্থাটির প্রতিনিধি দলের মধ্যে স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।
এ সময়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী, রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তালহা জামাল, হেড অব দ্য প্রোগ্রাম মো. এনামুল হক সরকার, প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মো. কামরুল ইসলাম, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শাহজাদা শরিফ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোঃ হারুন-অর রশিদ এবং ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তালহা জামাল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির আওতায় যৌথ গবেষণা কার্যক্রম প্রকল্প, উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ সহযোগিতা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমাধান বের করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক জ্ঞান হাতে-কলমে শেখার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। এ ছাড়া, এই চুক্তির মাধ্যমে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম প্রকল্প, উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গশিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে, সভা, সেমিনার ও ট্রেনিংয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবেন। এর মাধ্যমে বেরোবির উদ্ভাবনী কর্মকান্ডে আরও গতি আসবে বলবে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের হেড অব দ্য প্রোগ্রাম এনামুল হক সরকার বলেন, ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে বেরোবি গবেষণা খাতে এগিয়ে যাচ্ছে অনেক। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ বেরোবি শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেবে। এর মধ্য দিয়ে নীতিনির্ধারণী, উদ্ভাবনী এবং উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি সাধনে বেরোবির শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর তালহা জামাল বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া খুবই আনন্দের বিষয়। বিশ্বের সেরা একাডেমিয়াদেরকে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংযুক্ত করে ইতিবাচকভাবে সমাজ পরিবর্তনের সোপান রচনার উদ্যোগ নেওয়াই এই পদক্ষেপ গ্রহণের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, একত্রে এই যাত্রায় আমরা উদ্ভাবনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিব। ৫০ বছরে বিশ্ব অনেক বদলেছে। সেই বদলের ধারায় সমাজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এবং বেরোবি বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতের অগ্রগতি সাধনের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু সংকট আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যৌথভাবে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, উত্তরাঞ্চলের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস হিসেবে বেরোবি সবসময় বঞ্চনার গল্প তুলে ধরে। সেই জায়গা থেকেই সাঈদের মতো দুঃসাহসিকেরা আত্মত্যাগ করেছেন। শিক্ষার্থীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে এখানে পরিগণিত হচ্ছেন। সে দিক থেকে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশকে কৃতজ্ঞতা জানাই এই উদ্যোগের জন্য। বিশ্বের নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার জন্য ইসলামিক রিলিফকে ধন্যবাদ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বেরোবি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশকে ধন্যবাদ। এই সংস্থাটি উন্নয়ন কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সংকট, রোহিঙ্গা অভিবাসনের মতো বৃহৎ ইস্যু নিয়ে আমাদের দেশে অনেক সহযোগিতামূলক কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা কাজ করতে চান, উদ্ভাবন করতে চান তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে। তাদের জন্য কিছুদিন আগে তিনি জার্মানিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ ও গবেষণা খাতে কাজের সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা গবেষণা করে, তারাই বড় বড় উদ্ভাবনে অবদান রাখে। এটাই আমাদের বিশ্বের সংস্কৃতি। তারই অংশ হিসেবে রিলিফ থেকে আমাদের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা এখন ইন্টার্নশিপ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি অন্য অনুষদকেও বিভিন্নভাবে ইসলামিক রিলিফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টার্নশিপ, গবেষণা কার্যক্রম এবং ফিল্ড ভিজিটের সুযোগ করে দেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ একটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের ৪৫টি দেশে জরুরি অবস্থা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় কয়েক দশক ধরে কাজ করে আসছে সংস্থাটি। বিশ্বের সবথেকে বড় ইসলামিক এই সংস্থাটি ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে

