5169
Loading ...

গজনী বিটে অবৈধ বলু পাচার : কঠোর ভূমিকা উপজেলা প্রশাসনের

রাকিবুল ইসলাম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি:

ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী বিটের হালচাটি, মালিটিলা, গজারীচালা, মাগুনঝুড়া, দরবেশতলা ও ৫ নং এলাকায় প্রতিরাতে বালু পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাহিন্দ্র গাড়ি ব্যবহার করে নিয়মিত বালু পাচার করছে। এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের নাম পরিচয় গোপন রাখতে কখনো রাজনৈতিক পরিচয় আবার কখনো প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে আসছে। বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ দায়িত্বে থেকেও দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ বিট কর্মকর্তা বালু চক্রের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল আলম রাসেল রাতব্যাপি বালু পাচার ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছেন। এদিকে, উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীরা দৃঢ় অবস্থান নিলে কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের চাপ, হুমকি ও তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ,এভাবে বালু পাচার চলতে থাকলে পরিবেশ ও জনজীবন হুমকির মুখে পড়বে। এর ফলে শুধু পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই ধ্বংস হবে না বরং রাষ্ট্র হারাবে কোটি টাকার রাজস্ব।

শিক্ষানবিশ ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা, তহিদুল ইসলাম বলেন,“আমি এই বিটে যোগদানের পর স্বল্পসংখ্যক স্টাফ নিয়ে লড়াই করছি। ইতিমধ্যে একটি মাহিন্দ্র জব্দ করে মামলা করেছি। মালিটিলা এলাকায় বালুভর্তি গাড়ি আটকাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছি। তারা আমাকে অবরোধের চেষ্টা করেছিল। এরপরেও প্রতিনিয়ত পাচারকারীদের প্রতিরোধ করে যাচ্ছি। ফলে চক্রটি আমাকে টার্গেট করে মিথ্যা অভিযোগ ও হুমকি দিচ্ছে।

রাংটিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম বলেন,“গজনীতে প্রতিনিয়ত বালু পাচারের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেইকারণে আমি নিজে রাতভর মাঠে থেকে তা প্রতিরোধে কাজ করছি। বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খানের বিরুদ্ধে একাধিক মৌখিক অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও বালুখেকোদের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বালু পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না। কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় রক্ষা করা সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “গত কয়েক মাসে আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিযান চালিয়ে একাধিক গাড়ি জব্দ করেছি, পাচারকারীদের কারাদণ্ড ও জরিমানা দিয়েছি। প্রয়োজনে আরো কঠোর হবো। পাহাড় ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারী বালুখেকোদের কোনো ছাড় নেই। এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *