গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)–এ প্রক্টর পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এএসভিএম বিভাগের শিক্ষক ড. আহসান সৌরভকে নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয় প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষ প্রক্টর পরিবর্তনের বিরোধিতা করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে অপর পক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির এবং প্রচার সম্পাদক নাহিদুর রহমান সাকিব আহত হন। আহতদের মধ্যে নাহিদুর রহমান সাকিবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে দ্রুত গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছাত্রদলের একাংশ প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে, অন্য অংশ ভবনের ভেতরে অবস্থান নিয়েছে।
ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এএসভিএম বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করতে গিয়ে সহ-সভাপতি জহির একজন বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে প্রচার সম্পাদক নাহিদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রদল নেতা আনোয়ার-এর কক্ষে প্রবেশের সময় ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নাহিদ ও একজন শিক্ষক তাঁর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দীন শেখর বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা চলছে। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

