5169
Loading ...

বাকৃবিতে আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্মশালার উদ্বোধন

বাকৃবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আধুনিক, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে কৃষিতত্ত্ব বিভাগের আয়োজনে কৃষি অনুষদের ডিন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

‘টেকসই ও উন্নত কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি ব্যবস্থার গতিশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা জোরদারকরণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে হায়ার এডুকেশন একসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT) প্রকল্পের আওতায়, একাডেমিক ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (ATF)-এর সহায়তায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বাংলাদেশ।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণাগার ও মডেল ফার্ম স্থাপন, পাঠ্যক্রম হালনাগাদ, জলবায়ু সহনশীল স্নাতকোত্তর গবেষণা জোরদারকরণ, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং চায়না অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস ও চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি-র সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. দিয়াঁ সানু। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক ও এ টি এফ সচিবালয়ের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা।

কর্মশালায় বাকৃবি উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম বলেন, “আধুনিক ফার্মিং সিস্টেম আসলে একজন কৃষকের পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। এখানে শুধু ফসল নয়, পাশাপাশি হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও মৎস্যচাষের সমন্বয় থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত মডেল তৈরি করা হয়েছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ফার্মিং সিস্টেম বিষয়ক বিশেষায়িত মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করা জরুরি।”

বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা সামাজিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে—এটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিশ্বজুড়ে কৃষির ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে। আমাদেরও জলবায়ু সহনশীল, ভবিষ্যতমুখী কৃষি ব্যবস্থার দিকে মনোযোগী হতে হবে যেন বাংলাদেশ কৃষি কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৃষির গতিশীল পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাই এখন সময়ের দাবি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *