5169
Loading ...

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ৪র্থ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীকে স্লীতাহানীর অভিযোগ ওঠেছে ওই বিদ্যালয়ের এক সহকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে৷

:বাবুল হক, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগড় এলাকার মির্জা রুহুল আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীকে স্লীতাহানীর অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজিব উদ্দীন(৫৭) এর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃস্টি হয়। গতকাল সোমবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে আজ বুধবার সকাল ১১ টায় প্রথমে ওই শিক্ষার্থীর মা ও চাচীরা বিদ্যালয়ে এসে ওই শিক্ষককে লাঞ্চিত করে। পরে স্থানীয়রা শতাধিক লোকজন এসে বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বিচার দাবি করেন। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষটি মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে ওই শিক্ষকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ওই শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার দিন টিফিনের সময় ওই শিক্ষক আমাকে বাথরুমে ডেকে নিয়ে যান।
তারপর তার পরনের প্যানেন্ট খুলে দেন এবং ঐ শিক্ষক রেজিব উদ্দীন প্যান্ট খুলে খারাব আচরণ করেন। ওই শিক্ষার্থী বাথরুম থেকে বের হয়ে এসে ক্লাসের শিক্ষিকা আলফা ম্যাডামকে ডেকে বলেন দেন।

বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা আলফা বেগম বলেন, ঘটনাটি ঘটে ১১ তারিখ বুধবার। টিফিনের সময়। ওই দিন বিদ্যালয়ে আমরা দুইজন ম্যাডাম ছিলাম। একজন অসুস্থতার কথা বলে বাড়িতে চলে যান। পরে আমি আর এক শিক্ষক ছিলাম। প্রধান শিক্ষক মাসিক মিটিং এ উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়েছিলেন। মেয়েটি আমাকে ডেকে বলেন, রেজিব উদ্দীন স্যার আমাকে পঁচা কথা বলেছে। কি পঁচা কথা বলেছে তা কিন্তু বলেনি। শুধু বলেছে পঁচা কথা বলেছে আর কাঁন্না করছে। ছোট মানুষ সে কারণে আমরাও আর চাপাচাপি করিনি। বিষয়টি যাতে মেয়েটির মা জানতে না পারে সে বিষয় ম্যাডামকে বলতে নিষেধ করেন ওই শিক্ষার্থী। পরে বিষয়টি আমি মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষককে অবগত করি।

ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, গতকাল প্রথমে ওর চাচী বিষয়টি শুনে এসে আমাকে বলেছে। তারপর আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে সব খুলে বলে। তারপর ওর বাবাকে বলেছি। আমার মেয়ের সাথে খারাব আচরণ করেছে আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

অভিযুক্ত শিক্ষক রেজিব উদ্দীন ঘটনাটি অস্বীকার করে বলেন, পুরো ঘটনাটি মিথ্যা। আমি মেয়েদের বাথরুম পরিস্কার করার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম পরে তাদেরকে ১০ টাকা দিয়েছি বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল আজম জানান, বিদ্যালয় মাঝে দুইদিন বন্ধ থাকার কারনে আমি বিষয়টি উধ্বতন কৃতপক্ষকে জানাতে পারিনি। আমি বিষয়টি তদন্ত করছিলাম। আজ ওই শিক্ষার্থীর মা ও চাচী প্রথমে বিদ্যালয়ে আসেন এবং ওই শিক্ষকে ধরার চেস্টা করেন। পরে স্থানীয়রা অনেক লোকজন জড়ো হন। নিরাপত্তার সার্থে ওই শিক্ষককে আমি তালাবন্ধ করে রাখি। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার কথা বলে পরিস্থিতি ঠান্ডা করে ওই শিক্ষককে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই বলে জানান তিনি।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড কুষ্ণনগড় এলাকার দায়িত্বরত গ্রামপুলিশ হরদেব চন্দ্র বর্মণ বলেন, এই স্কুলে একটা গ্যানজ্যাম চলছে আমাকে ফোন করা হয়েছিল। সে ঘটনা শুনে আমি এখানে এসেছি। এসে দেখি পরিবেশ শান্ত হয়ে গেছে৷
মীর্জাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক ও ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিত্যচন্দ্র বর্মণ জানান, চাকুরির শেষ সময় এসে ওই শিক্ষকের ওপর শয়তান ভর করেছে। ঘটনাটি শোনার পর আমরা ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার বাবা মায়ের সাথে কথা বলেছি এবং মেয়েটির কাছেও ঘটনাটি শুনেছি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বসে একটা সমাধান করার কথা রয়েছে বলে জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *