চীনের উহানের করোনা তথ্য ফাঁসকারী এক চিকিৎসক নিখোঁজ হয়েছেন



তার সতর্কবার্তাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছিল হা’সপা’তাল কর্তৃপক্ষ। উল্টো তার বি’রু’দ্ধে অনলাইনে মিথ্যা তথ্য ও আ’ত’ঙ্ক ছড়ানোর অভি’যোগ আনা হয়েছিল। করোনা আ’ক্রা’ন্ত এক রো’গীর প্যাথিলজি রিপোর্টে ‘সার্স করোনাভাইরাস’ লেখা ছিল এবং তিনি সেই প্রতিবেদনের ছবি ঊর্ধ্বতনদের দেখিয়েছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করে।

নিখোঁজের আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডা. ফেন জানান, লি নামের আরেক চিকিৎসকসহ চার সহকর্মী করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যান। এরপর থেকে তার অনুশোচনা হয় কেন তিনি কর্তৃপক্ষের চাপ সত্ত্বেও আরো তথ্য প্রকাশ করলেন না। তিনি বলেন, ‘আজ যা ঘটছে তা যদি আমি জানতাম তাহলে আমি শাস্তির তোয়াক্কা করতাম না। সবজায়গায় সবাইকে আমি বিষয়টি বলতাম।’

এর আগে করোনাভাইরাস নিয়ে তথ্য প্রকাশ করায় ডা. লিসহ বেশ কয়েক জনকে উহানের পু’লি’শ স্টেশনে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের তথ্য আর প্রকাশ করবেন না সেই মুচলেকা দেওয়ার পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত মাসে করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যান ডা. লি।

ম’রণঘা তী করোনাভাইরাস গত বছর ৩১ ডিসেম্বর চীন থেকে ছড়িয়ে সারা বিশ্বে মহামা’রী আকার ধারণ করে। এরপর ভাইরাসটি চীনের জৈব আবিষ্কার বলে দাবি করে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরান। এবার তিন দেশের দাবির সঙ্গে সুর মেলালো ব্রিটেন। যদিও বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রা’ণীদে’হ থেকেই মা’র’ণ রো’গের জী’বাণু ছড়িয়েছে।

তবুও চীনের গবেষণাগার থেকে জী’বা’ণু ছড়ানো তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছে না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন জরুরিকালীন কমিটি (কোবরা)। এর আগে হোয়াইট হাউসে টাস্কফোর্স আলোচনা সভায় এমন অভি’যোগ জানিয়েছিল। এবার তাদের সঙ্গে সুর মিলালো ব্রিটেন। দেশটিতে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি কমিশন গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

ব্রিটেনের সংবাদপত্র ‘ডেইলি মেইল’ কোবরা কমিশনের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃতি করে লিখেছে, ‘বিজ্ঞানীরা যতই বলুন, উহান প্রদেশের গবেষণাগারে জী”বাণু তৈরির তথ্য উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’ এদিকে ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোবরা কমিশনের এক সদস্য জানান, উহানের গবেষণাগারে যে এই জী’বা’ণু তৈরি হয়েছিল, সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিট্রেনের এমন অভি’যোগ ভিত্তিহীন বলেছেন ব্রিটেনের চীনা দূতাবাস। দেশটিতে চীনা রাষ্ট্রদূত জেং রংয়ে বলেছেন, ‘এই অভি’যোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিশ্বের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিয়ে চীন চিন্তিত। তাদের স্বার্থে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছে। চীন বিশ্বের সমস্ত দেশকে এই মহামা’রি মোকা’বেলায় সাহায্য করছে। কিন্তু সেই চেষ্টাকে অপ’মান করা হল। চীনেই যদি এই ভাইরাস তৈরি হত, তাহলে সেখানে এত মানুষকে ম’র’তে হত না।’

চীনের উহানে গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ডেইলি মেইল ২০১৮ সালে চীনের সংবাদপত্র পিপলস ডেইলি চায়নার একটি প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চীনের ভাইরোলজি ইন্সটিটিউট ইবোলার চেয়ে ভ’য়ংক’র এক জী’বাণু’ নিয়ে গবেষণা করছে। মজাদার বিষয় হল, ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে বানানো ওই প্রতিষ্ঠানটি ব’ণ্যপ্রা’ণী বাজার থেকে মাত্র দশ মাইল দূরে রয়েছে।’ আবার অসর্মিথ সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে উহানের ওই পরীক্ষাগারের বিজ্ঞানীরা। পরে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা ভাইরাস জৈব অ’স্ত্র দাবি করে বক্তব্য রেখেছিলেন ইসরায়েলি ও মার্কিন বিজ্ঞানীরা। ‘জেনেটিক্যালি মডিফায়েড’ এই করোনাভাইরাসের জন্মদাতা চীনের উহানের বায়োসেফটি ল্যাবোরেটরি লেভেল ফোর বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন আ’ই’নজীবী ও রাসায়নিক মা’র’ণা’স্ত্র বি’রো’ধী সংগঠনের অন্যতম সদস্য ড. ফ্রান্সিস বয়েল। তিনি বলেছিলেন, শক্তিশালী রাসায়নিক মা’র’ণা’স্ত্র করোনাভাইরাস, ছড়িয়েছে উহানের ল্যাব থেকেই।

রাসায়নিক অ’স্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংগঠনেরও অন্যতম নেতা ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস কলেজের আ’ইনের অধ্যাপক ড. ফ্রান্সিস বয়েল বলেন, তার উদ্যোগেই ১৯৮৯ সালে ‘বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাক্ট’ বিল পাশ হয়। নোভেল করোনাভাইরাস যে নিছকই কোনো ভাইরাসের সং’ক্র’মণ নয়, সে বিষয়ে আগেও মুখ খুলেছিলেন ড. ফ্রান্সিস।

ইজরায়েলি গো’য়েন্দা ও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের দাবির সমর্থন জানিয়েই ড. ফ্রান্সিস বয়েল বলেন, উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিতে অতি গো’প’নে রাসায়নিক মার’ণা’স্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। সি-ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। আর এই বিষয়টি জানে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সব জেনেও গোটা বিষয়টাকে কৌশলীভাবে ধামাচা’পা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ড. ফ্রান্সিস বলেন, সার্স ও ইবোলা প্রা’ণঘা তী হয়ে ওঠার পরে অভি’যোগের আঙুল ওঠে এই গবেষণাগারের দিকেই। রো’গ প্রতি’রোধ নয়, বরং প্রা’ণঘা তী জৈব অ’স্ত্র’ বানাতেই মত্ত গবেষকরা। যা নোভেল করোনা ভাইরাসকে রাসায়নিক মা’রণা’স্ত্র দাবি করেছিলেন মার্কিন সিনেটর টম কটনও।

তিনি বলেন, চীন জী’বা’ণুযু’দ্ধের জন্য বানাচ্ছিল ওই ভাইরাস। এখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কথাটা লুকোতে চাইছেন। কা’র’ণ আন্তর্জাতিক আ’ই’নে জী’বা’ণুযু’দ্ধ নিষিদ্ধ। তারা ওই নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শা’স্তির মুখে পড়তে হবে।র পরিণিতি এই মহাম’রি। এত মানুষের মৃ’ত্যু।