২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যু, দুরকম তথ্য দিলো সরকার



বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা যেদিন রেকর্ড ছাড়ালো, সেদিনই সরকারের দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা দিলেন সংখ্যা নিয়ে দুরকমের তথ্য।

আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা প্রথমদিকে এককভাবেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দৈনিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও এতে যোগ দিচ্ছিলেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, যদিও পূর্ব নির্ধারিত ব্রিফিংয়েই প্রতিদিনকার তথ্য জানানো হয়, কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী মি. মালেক সোমবার এক অনির্ধারিত অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবেই নতুন আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন গত চব্বিশ ঘণ্টায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তার উল্লেখ করা নতুন শনাক্ত রোগী ছিলেন ২৯ জন, এই সংখ্যাও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

কিন্তু এর দুই ঘণ্টা পর নিয়মিত অনলাইন সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩ জন।

নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৫ জন।

স্পষ্টতই দুই রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে দুজনের কাছ থেকে, যদিও দুজনেই দায়িত্বশীল পদে আছেন এবং এই দুজনের যে কোন একজনের দেয়া তথ্যই এতদিন করোনাভাইরাস সংক্রান্ত গ্রহণযোগ্য তথ্য হিসেবে গণ্য করে আসা হচ্ছিল।

এখন দেখা যাচ্ছে জাহিদ মালেকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩, শনাক্ত রোগী ১১৭।

কিন্তু মিজ ফ্লোরার দেয়া হিসেব অনুযায়ী মোট রোগী ১২ জন। শনাক্ত হয়েছেন ১২৩ জন।

তাঁর হিসেবে, নতুন যারা শনাক্ত হয়েছেন তার মধ্যে পুরুষ ৩০ জন, পাঁচজন মহিলা

এখন পর্যন্ত যারা শনাক্ত হয়েছেন তার মধ্যে ঢাকায় ৬৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ২৩ জন।

দুরকম তথ্যের ব্যাখ্যা

মন্ত্রী ও পরিচালকের দেয়া তথ্যের মধ্যে যে অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মন্ত্রী ব্রিফিং করেননি। তার বক্তৃতার অংশ হিসেবে তিনি সেটা বলেছেন।”

একটি নাম ভুল করার কারণে এই ভুলটি হয়েছে, বলেন তিনি।

দুটি তথ্যই আইডিসিআর দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ তথ্য:
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৪০১১ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

আর গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৪৬৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।

গত চব্বিশ ঘন্টায় ৭৩৯ জনকে কোয়ারিন্টনে রাখা হয়েছে।

আইসোলেশনে আছেন ১০৭ জন।

হটলাইনে টেলিফোন এসেছে ৬৭২১০।