Breaking News

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বেড়েছে যান চলাচল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সারা দেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ দ্বিতীয় দিন আজ (১৫ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার। এর আগে গতকাল বুধবার লকডাউনের প্রথম দিন সড়কে-মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে যান চলাচল ও জনসমাগম কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন বেড়েছে জনসমাগম ও যান চলাচলের দৃশ্য।

আজ সকালে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় সরোজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আইশৃঙ্খলা বাহিনী গতকালের তুলনায় আজ কিছুটা নমনীয়। প্রথম দিন বিভিন্ন যানবাহন ও মানুষকে বাইরে বের হওয়ার জন্য পুলিশের জেরার মধ্যে পড়তে হলেও আজ সে রকম খুব একটা দেখা যায়নি। তবে শহরের বিভিন্ন সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল করতে পারছে না।

এদিকে, গতকাল বুধবার পয়লা বৈশাখের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন পোশাক কারখানা, ব্যাংক, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। আর এজন্য সকাল থেকে সড়কে যান চলাচলে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ব্যাংক ও শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান লকডাউনের আওতামুক্ত রেখেছে।
এছাড়া সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে দেড় হাজার তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ৩০ লাখ। বেশিরভাগ শিল্পকারখানার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে শ্রমিক পরিবহণের ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক ভোগান্তির কবলে পড়েছেন সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে নিয়োজিত শ্রমিকেরা।

বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সতর্কতার পাশাপাশি কোথাও কোথাও রয়েছে ঢিলেঢালাভাব।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সতর্কতার অংশ হিসেবে বেশ কিছু শিল্পকারখানা শ্রমিকদের আগমন ও প্রস্থানের সময় চার থেকে ছয় পর্বে নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এদিকে, সাভারের সড়কেও দেখা গেছে ঢিলেঢালাভাব। প্রয়োজন ছাড়াই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে অনেকেই ঘুরতে বেরিয়েছেন। কাঁচা বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতেও উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি।

আজ সকাল থেকে সাভার উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ-আল-মাহফুজের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ-আল-মাহফুজ বলেন, “‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কার্যকর করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তারপরেও অনেক মানুষজন বিনা প্রয়োজনে বাসার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ‘তাই সর্বাত্মক’ লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে কাজ করা হচ্ছে। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে বেশকিছু ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় সচেতন করতে মাস্ক বিতরণ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট।”

এর আগে গতকাল বুধবার ‘কঠোর লকডাউনের’ প্রথম দিন রাজধানী ছিল কার্যত ফাঁকা। মানুষ খুব বেশি একটা ঘর থেকে বের হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। অকারণে বের হওয়ার কারণে কাউকে কাউকে গুনতে হয়েছে জরিমানা। মামলাও হয়েছে।

তবে দিনের শুরুতে কর্মস্থলগামী চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মী, জরুরি কাজে নিয়োজিত কর্মীদের আনাগোনা ছিল সড়কে। কেউ কেউ ভালোমতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারলেও কাউকে কাউকে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। শিকার হতে হয়েছে হয়রানির। কয়েকজন চিকিৎসক এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, সর্বাত্মক লকডাউনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে যান চলাচল ও জনসমাগম কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন বেড়েছে জনসমাগম ও যান চলাচলের দৃশ্য।