Breaking News

লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের মানুষ, অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা



বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৪ই এপ্রিল থেকে কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর করা হবে। এই ঘোষণা আসার পর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

কর্তৃপক্ষ বলছে, লকডাউনে যারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের।
বাংলাদেশে গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর সরকারের আরোপিত তথাকথিত লকডাউনের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

সেসময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন খাতের বা কলকারখানার শ্রমিক বা দিন মজুর হিসেবে কাজ করা মানুষ না খেয়ে দিন যাপন করেছে, এমনও অভিযোগ শোনা গেছে।

এবারও লকডাউন শুরুর আগে অনেকটা একই ধরণের পরিণতির আশঙ্কা করছেন নিম্ন আয়ের বহু মানুষ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং, সানেম গত বছরের জুন মাসে লকডাউন পরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে উঠে আসে যে দুই মাসের লকডাউনের পর দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে।

ঐ গবেষণার একজন গবেষক সায়মা হক বিদিশা বলছেন, এবারও একই ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

“গত বছরের লকডাউনে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তারা সরকারি সহায়তা, রেমিট্যান্স সহ নানা ধরণের সহায়তার ওপর ভর করে গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এখন আবার নতুন করে লকডাউন দেয়ায় মানুষজন আবারো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে”, বলেন সায়মা হক বিদিশা।

তিনি বলেন গত বছরের লকডাউনে নিম্ন আয়ের বহু মানুষ নিজেদের সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছে, অনেকের নতুন করে ঋণ নেয়ার মত পরিস্থিতিও নেই।

এই অবস্থায় তাদের আয় এবং কাজের ধরণ বিবেচনা করে আলাদা ভাবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি।

“খুব দরিদ্রদের বা বস্তি এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার দিয়ে আসার ব্যবস্থা করা উচিত। শুনতে হাস্যকর শোনালেও, এই ব্যবস্থা না করলে অতি দরিদ্রদের ঘরে রাখা সম্ভব না। সেরকম মধ্যবিত্তদের জন্য স্বল্প পরিমাণে রেশনের মত খাদ্য ও জরুরি পণ্যের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”

তবে গত বছর এই বন্টনের ক্ষেত্রে নানা ধরণের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে আগের বারের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন মিজ বিদিশা।

এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে আসন্ন লকডাউনের সময় যারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মোহসিন বলেন, “দেশের শহর ও গ্রাম সব জায়গায় ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।”

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য সরকারের যথেষ্ট বরাদ্দ থাকলেও তার সুষ্ঠু ও সুষম বন্টন নিশ্চিত করতে না পারলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্দশা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বিবিসি।