বরগুনায় দেশের প্রথম ‘নৌকা জাদুঘর’ চালু



বরগুনায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ‘নৌকা জাদুঘর’। বৃহস্পতিবার জাদুঘরটি চালু করা হয়েছে। ৮ অক্টোবর বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির পাশে পুরানো পাবলিক লাইব্রেরি চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধু ‘নৌকা জাদুঘর’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবির, পৌর মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম ’৭১ বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোয়ার প্রমুখ।

জানা গেছে, নতুন প্রজন্মের কাছে বিলুপ্তপ্রায় বাহারি নৌকা নতুনভাবে পরিচিত করানোর পাশাপাশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু ‘নৌকা জাদুঘর’ তৈরি করা হয়েছে। এখানে নতুন পুরানো ১০০ নৌকার অনুকৃতি, নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক লাইব্রেরি, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশুদের বিনোদনের জন্য রাইড, ৯ডি থিয়েটার ও ফুড ক্যাফের ব্যবস্থা রয়েছে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনায় জেলা প্রশাসন ভবন সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমিতে মাত্র ৮১ দিনের মধ্যে নৌকা জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। নৌকার আদলে তৈরি জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফুট ও প্রস্থ ৩০ ফুট। মূল ভবনটিতে ৭৫ ফুট গলুই ও ২৫ ফুট করে জাদুঘরের ভেতরে বিভিন্ন প্রকারের ১০০টি নৌকার মডেল রয়েছে। এর মধ্যে ডিঙ্গি, একমালই, কেরায়া, কোষা, পানসি, গয়না, কোন্দা, ঘাসি, সাম্পান, লম্বাপাদি, বাচারি, পাতাম বাইচের নৌকা উল্লেখযোগ্য। বড় ছোট খাল-নদী-সাগরে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের নৌকা রয়েছে জাদুঘরটিতে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, কালের বিবর্তনে নৌকা এখন খাল-নদী-সাগরে তেমন দেখা না গেলেও দেশের পেক্ষাপটে এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, অবদান রেখেছে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে। যুক্তফ্রন্ট থেকে স্বাধীনতা ও বর্তমান রাজনীতিতে প্রতীক হিসেবে নৌকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরো বলেন, বরগুনায় নদী-খাল এমনকি সংশ্লিষ্ট সাগরে এক সময় নৌকার আধিপত্য ছিল। নৌকা শুধু যানবাহনই নয়, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মালামাল আনা-নেয়া, সুন্দরবন থেকে কাঠ সংগ্রহ, নদী সাগরে মৎস্য শিকারসহ নানা কাজে ব্যবহার হতো। এসব নৌকা নিয়ে গবেষণা বা এর সংরক্ষণে কোথাও তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সে শূন্যতা পূরণে বরগুনার ‘নৌকা জাদুঘর’ ভূমিকা রাখবে।