নেতাদের উস্কানিতে মন্দির জ্বালিয়ে দিল পাকিস্তানিরা



পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি শতবর্ষী মন্দির জ্বালিয়ে দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কারাক জেলার ওই মন্দিরটিতে আগুন ধরানোর পর তার ইট খুলে নেয় স্থানীয়রা। খবর রয়টার্সের।ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁতুড়ি ও পাথর ব্যবহার করে মন্দিরের ইট খসাচ্ছে একদল মানুষ। এসময় মন্দিরের ভেতর আগুন থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়।

স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্দির সম্প্রসারণের অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে স্থানীয় মুসলিম নেতারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের কথা বলে সেখানে গিয়েছিলেন। একসময় উস্কানিমূলক বক্তব্য শুরু করেন তারা। এতে প্ররোচিত হয়ে মন্দিরে হামলা চালায় জনতা।

রহমতউল্লাহ ওয়াজির নামে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্ষুব্ধ জনতাকে থামাতে সেখানে কেউ ছিল না।’ হামলায় মন্দিরের বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জেলার পুলিশ প্রধান ইরফানউল্লাহ খান বলেছেন, মন্দিরে হামলায় জড়িত সন্দেহে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা যায়, মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল উনিশ শতকের শুরুর দিকে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় স্থানীয় হিন্দুরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। ১৯৯৭ সালে স্থাপনাটির দখল নেন মুসলিমরা।

২০১৫ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট মন্দিরটি হিন্দুদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেটি পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেন। তবে সেসময় শর্ত দেওয়া হয়েছিল, ভবিষ্যতে মন্দিরের সম্প্রসারণ করা যাবে না। এরপরও স্থানীয় নেতাদের উস্কানিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে স্থাপনাটির বেশিরভাগ অংশ।

হারুন সরদিয়ায় নামে স্থানীয় এক হিন্দু নেতা বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের সঙ্গে এটি খুবই বর্বর আচরণ। আমরা হতবাক এবং বেদনাক্রান্ত… ঘটনাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।’

মন্দিরে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী শিরীন মাজারি। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর।