নিজের সন্তান দত্তক দিয়ে অন্যের সন্তান চুরি করে স্বামীকে বুঝ দিলেন স্ত্রী



নাটোরের গুরুদাসপুর হাসপাতাল চত্বর থেকে চুরি হওয়া শিশুকে উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত শাকিলা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে বড়াইগ্রামের কালিকারপুর গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার শাকিলা বড়াইগ্রামের তিরাইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গুরুদাসপুর থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমার লিটন কুমার সাহা জানান, গুরুদাসপুরের মশিন্দা মাঝপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের স্ত্রী সিমা খাতুন জানিয়েছিলেন, ২৩ ডিসেম্বর সকালে দুই মাসের শিশু তাইবাকে ঠান্ডাজনিত অসুখের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা দেয়াতে নিয়ে আসেন।

বহির্বিভাগের লাইনে অনেক ভিড় থাকায় পাশে থাকা বোরকা পরা এক নারী সিমা খাতুনকে বলেন- ‘আপা আপনার বাচ্চা আমার কোলে দেন’। কিছুক্ষণ পর সিমা খাতুন দেখেন ওই নারী শিশু তাইবাসহ উধাও হয়ে গিয়েছেন।

বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গুরুদাসপুর থানা পুলিশকে জানায়। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, বোরকা পরা নারীটি শিশুটিকে কাপড়ে জড়িয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে শিশুর বাবা তফিজ উদ্দিন বাদি হয়ে মামলা করেন।

এরপর পুলিশের চারটি দল সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে কালিকারপুর গ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় শিশুটিকে উদ্ধার ও চুরির সঙ্গে জড়িত শাকিলাকে গ্রেফতার করে।

এসপি রিটন কুমার সাহা জানান, তিরাইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের সঙ্গে শাকিলার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তারপর শাকিলার একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। তিনি গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেন। সেখানে এক নিঃসন্তান এনজিওকর্মীর কাছে নিজ সন্তানকে দত্তক দেন। কিন্তু সাকিলার স্বামী সাইদুল তার সন্তান ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ অবস্থায় শাকিলা স্বামীকে বুঝ দিতে ২৩ ডিসেম্বর দুই মাসের শিশুটিকে চুরি করে কালিকাপুরে ভাড়া নেয়া নতুন বাড়িতে উঠেন।

এসপি আরো জানান, পুলিশের চারটি দল গত সাতদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে অবশেষে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।