খোলা চুল দেখেলেই বিপদ, বিয়ে করতে হবে সেই পুরুষকেই



সুন্দর লম্বা চুল সাধারণত সকল মেয়ের ভালো লাগে। মেয়েদের জন্য লম্বা চুল যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনি এতে মেয়েদের সুন্দর আবেগ আর অনুভূতিও শামিল হয়েছে।

তবে জানেন কি? এই লম্বা চুল পুরুষরা দেখলেই বিপদ। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। এমনই অদ্ভুদ প্রথা রয়েছে চীনের হুয়াংলুও গ্রামের নারীদের। এছাড়া আরও বিভিন্ন প্রথা রয়েছে চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে-

চীনের হুয়াংলুও গ্রামের নারীদের চুল অবিশ্বাস্য রকমের বড় হয়। তারা শুধুমাত্র ১৬ বছর বয়সে পা রাখার প্রাক্কালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চুল কাটে। প্রাচীনকালে সেখানে একটি নিয়ম ছিলো।

কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীর খোলা চুল দেখে ফেলতো, তাহলে সেই মেয়েটিকে তার বিয়ে করতে হতো। তবে এখন আর এই নিয়মটি নেই। সেখানকার নারীরা তাদের চুল সবাইকে দেখাতে পারে।

নাককে কেন্দ্র করে ফ্যাশন

এখন শুধু ভারতেই নয়, সারা বিশ্বেই বিভিন্ন জায়গায় নাকে একাধিক ফুটো করার জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। তবে ভারতের কোনো কোনো জায়গায় মেয়েরা নাকে একাধিক ফুটো করে থাকে। সাধারণত একটি চেইনও লক্ষ্যণীয় যাতে নাকের দুলের সঙ্গে কানের দুলও সংযুক্ত থাকে। নিয়ম অনুযায়ী এই স্টাইলে নাক ফুটো করতে হয় বিয়ের আগে। এছাড়াও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রের অনুসারীরা মনে করেন, বাম নাকে ফুটো থাকলে তা যেকোনো ধরনের ব্যথার লাঘব করে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যেরও উন্নয়ন ঘটায়।

পৌত্তলিক ট্যাটু বলকান জাতি

বলকান জাতির বয়োজ্যেষ্ঠদের ট্যাটু দেখে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও আলবেনিয়ার নারীরা তাদের হাতে সৌর চিহ্ন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ট্যাটু বানাতেন। এটি তাদের পৌত্তলিক অতীতের কথা এবং এটি পরিবেশন করা হতো তাবিজ-কবজ হিসেবে। এই ট্যাটুগুলো মানুষ করাতো মহাবিষুবের সময়ে। এই ট্যাটু করার আরো একটি সুবিধা ছিলো, তুর্কির লোকেরা এই ট্যাটু করা মেয়ে লোকদের চুরি করে অন্তঃপুরে নিয়ে যেত না।

পুরুষদের অদ্ভুত ফ্যাশন

মধ্যযুগীয় সময়ে নারীরা তাদের পা বড় স্কার্টের আড়ালে লুকিয়ে রাখতো। তবে পুরুষেরা বড়সড় মোজা পড়ে তাদের পায়ের বেশ খানিকটা অংশ দেখাতে পছন্দ করতেন। অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবান পুরুষেরা পায়ের পাতায় মোজাবিশেষ পরতো যা পা পর্যন্ত দড়ির মতো কিছু দিয়ে জড়ানো থাকতো।

মুখে এরকম ট্যাটু থাকলে আর মুখোশ পরার কি দরকার

মাওরি জাতির বসবাস ওশেনিয়ায়, যারা তাদের মুখোমণ্ডলে আঁকা ট্যাটুর জন্য সুপরিচিত। পুরুষেরা শুধুমাত্র তাদের মুখেই নয়, বরং সারা শরীরে নানান ঢঙে ট্যাটু আঁকতো। আর নারীরা তাদের চিবুক, ঠোঁট ও গলার উপরে ট্যাটু করাতো। এই ট্যাটুগুলো কিন্তু বর্তমানে আঁকা ট্যাটুগুলোর মতো সুই দিয়ে করা হতো না, এতে ব্যবহার করা হতো একটি বিশেষ ধরনের বাটালি।

এই ফ্যাশন এখন থাকলে কেমন লাগতো

ইউরোপে চুল খুব বেশি একটা জনপ্রিয় ছিলো না, তাই সেখানকার কপাল শেভ করা, ভ্রু এবং চোখের পাপড়ি তুলে ফেলার প্রচলন ছিলো। এই ঐতিহ্যবাহী স্টাইলটি জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো রিকেটস্‌ রোগ, যার ফলে চুল পড়ার সমস্যাটি দেখা দিতো। মুষ্টিমেয় কিছু ভদ্র সমাজ এই স্টাইলটিকে হাল ফ্যাশনে পরিণত করার পর অন্যান্যরা এর অনুকরণ শুরু করে।

ফ্যাশন তো নয়, রীতিমতো ভয়ংকর অবস্থা

অবাস্তব ও উদ্ভট মনে হলেও এই উদ্ভট ফ্যাশনটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলো বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা। যদিও তারা কেউই একই গোত্রের বা চিন্তাধারার মানুষজন ছিলেন না! হান (পূর্ব ইউরোপে বসবাসকারী যাযাবর প্রকৃতির মানুষ), ইতালির অধিবাসী, সারমাতিয়ান (ইরানের এক বিশাল সংঘ), মায়া গোষ্ঠী এবং আফ্রিকার কিছু সংখ্যক মানুষের মধ্যে এই ধারার প্রচলন ছিলো বেশি। এমনকি বিংশ শতাব্দীর দিকেও ফ্রান্সে এই রীতির প্রচলন লক্ষণীয় ছিলো। মাথার খুলির আকৃতি পরিবর্তনের জন্য অভিভাবকেরা তাদের বাচ্চাদের মাথা ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখতো অথবা বিশেষ কোনো বেবি কটে রাখতো।

নকল হাসির বাহার

রহস্যময়ী আইনু গোষ্ঠীর বসবাস ছিলো জাপানের দ্বীপে এবং রাশিয়ার কিছু কিছু অংশে। এই গোষ্ঠীর নারীরা মুখে এক ধরনের ট্যাটু বানাতো, যা দেখতে ছিলো অনেকটা সঙ বা জোকারের হাসির মতো। আইনু গোষ্ঠীর মানুষদের বিশ্বাস ছিলো। এই ট্যাটুগুলো তাদের নারীদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, মৃত্যু পরবর্তী জগতেও এই ট্যাটু রীতি শান্তি আনতে পারে বলে তাদের ধারণা ছিলো। এই ট্যাটু আঁকার প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন ধাপে বিভক্ত ছিলো যা শুরু করা হতো সাত বছর বয়স থেকে।