বৌয়ের ওড়নায় লজ্জাস্থান ঢাকতেন ভিক্ষুক, পেলেন ভাত-কাপড়



পটুয়াখালীতে অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করা মো. সুলতান ও সকিনা বেগম এক ভিক্ষুক দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও কয়েকটি সংগঠন। খাদ্যপণ্য, শীতবস্ত্রসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে ওই দম্পতির বাড়িতে।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই ভিক্ষুক দম্পতির বাড়ীতে যান পটুয়াখালী সদরের ইউএনও লতিফা জান্নাতি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. হেমায়েত উদ্দিন, পটুয়াখালী ইউথ ফোরামের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক মো. হাসিবুর রহমান প্রমুখ। এর আগে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের পক্ষ থেকে শাড়ি-লুঙ্গি ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয় ওই দম্পতির বাড়িতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যতদিন শরীরে শক্তি ছিল, কাজ করেই সংসার চালাতেন মো. সুলতান। তখন ভালোই চলছিল সুলতান-সকিনা দম্পতির সংসার। এখন বয়সের ভারে কাজ করতে পারেন না, অভাব হয়েছে নিত্যসঙ্গী। দুই ছেলেও খোঁজ নেয় না। থাকেন অন্যের জমিতে তোলা ভাঙা ঘরে। জোটে না দুবেলা খাবার। ভিক্ষা করে লোকের বাড়ি থেকে চেয়ে আনা পান্তা ভাত শুকিয়ে চাল হলে সেগুলো ফের রান্না করে খান। এভাবেই লোকের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে খাবার জোগার করেন সুলতানের স্ত্রী সকিনা বেগম।

৯৫ বছরের বৃদ্ধ মো. সুলতান পটুয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রথম লেন বোহালগাছিয়া এলাকায় স্ত্রী সকিনা বেগমকে নিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, দুই বেলা ভাত জোটে না, কাপড় পাবো কই। লুঙ্গিও নেই, তাই স্ত্রীর ওড়না পরে থাকি।

এ দম্পতির দুই ছেলে মোস্তফা ও মোশাররফ নিজেদের মতো থাকে। বাবা-মায়ের খোঁজ নেয় না। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের।

ইউএনও লতিফা জান্নাতি বলেন, অসহায় এ দম্পতির সংবাদটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের ঘরের ব্যবস্থাও করে দেয়া হবে।