দেড় বছর ধরে ইটের প্রাচীরে অবরুদ্ধ পরিবার, আত্মহত্যার হুমকি



নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় দেড় বছর ধরে নিজ বসত বাড়িতে ঢুকতে না পেরে পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছেন এক অসহায় পরিবার।
বৃদ্ধ দাদিসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছে রিপন উদ্দিন শাহ। বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়ে বিচার না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত ওই পরিবারের সদস্যরা একযোগে আত্মহত্যা করার পথ বেছে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার গোনা ইউপির ঘোষগ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে রিপন উদ্দিন শাহ্ ঘোষগ্রাম মৌজার ৪৮২ খতিয়ানে ৬১৬ দাগের তার পৈতৃক সম্পত্তির ৩১ কাতে ৩ শতক জমির ওপরে ১০ বছর আগে টিন দিয়ে বাড়ি তৈরি করেন। বাকি জায়গায় নানান জাতের গাছপালা লাগিয়ে তার পরিবার ও বৃদ্ধ দাদিকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার দাদি আম্বিয়া বেগম জীবদ্দশায় নাতি রিপন ও তার বোনদের গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ৫১৯৩ নং দলিলমূলে ৩ শতক জমি লিখে দেন।

শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল ও বসবাসের এক পর্যায়ে গত বছরের মার্চ মাসে রিপন শাহ্ তার পরিবারসহ আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এই সুযোগে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী জিয়া উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারিক সরদার তার ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে রিপনের বসতবাড়ির চারিদিকে ৫ থেকে ৭ ফিট উঁচু করে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলেন। এক কাপড়ে বের হওয়া রিপন মই দিয়ে প্রাচীর টপকিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলেও চারিদিকে ইটের প্রাচীর অবরুদ্ধ থাকায় তার নিজ বাড়িঘর ছেড়ে স্বজনদের নিয়ে অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ভুক্তভোগী রিপন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মৌখিকভাবে জানালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বারিক উদ্দিনকে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ডেকে পাঠায়। কিন্তু তার ডাকে উপস্থিত না হয়ে বহিরাগত লোকজন নিয়ে প্রাচীরটি আরো মজবুত করে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

রিপনের পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়ে মানবিক আর্তনাত করেও কোনো ফলাফল না পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গেলে প্রভাবশালী বারিকের লোকজনরা ওই পরিবারে সদ্যসদের উপর চরাও হয়। এমনকি তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধমকিও প্রদান করে।

প্রভাবশালী আব্দুল বারিক সরদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

ইউএনও আল-মামুন জানান, বিষয়টি জানার পর নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বারিক উদ্দিনকে জমির কাগজপত্র নিয়ে আসতে বললেও বারিক আসেনি।