ভুল করে কিছু খেয়ে ফেললে কী রোজা ভাঙে?



ভুল করে কিছু খেয়ে ফেললে- প্রা’ণঘা তী ক’রো’না ভা’ইরা’সের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মাঝেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। এই মাসে রোজাদাররা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছুই মুখে দেন না। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা ও বেশি সময় ধরে প্রার্থনার ভেতর দিয়ে মুসলমানরা এই সময়টায় নতুন করে আত্মশুদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করেন।

আপাতদৃষ্টিতে রোজা সহজ-সরল একটি ধর্মীয় আচরণের বিষয়। তবে এটি নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা বিদ্যমান, যেগুলো নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

রোজা নিয়ে ৫টি সাধারণ ভুল ধারণা তুলে ধরা হলো– ব্রিটেনে অ্যাডভান্সড (অগ্রসর) ইসলামী বিজ্ঞান ও শরিয়া আইনের ছাত্র সাব্বির হাসান নিজের ধর্মীয় জ্ঞান প্রয়োগ করে এগুলোর বিশ্লেষণ করেছেন–

দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়

অনেক মানুষ মনে করেন পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়। কিন্তু ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙে না। সাব্বির হাসান বলেন, সবচেয়ে ভালো পরামর্শ অল্প পরিমাণ পেস্ট নিন। মিন্টের গন্ধ কম এ রকম পেস্ট ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে গাছের সরু ডাল থেকে তৈরি মিসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহার করা যেতে পারে।

মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না

সাব্বির হাসান বলছেন, ‘মুখের লালা পেটে ঢুকলে কোনো অসুবিধা নেই। নিজের লালা গলাধঃকরণ করা খুব স্বাভাবিক একটি শারী রিক প্রক্রিয়া, এতে অবশ্যই রোজা ভাঙে না।’

ভুল করে কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙবে না

আপনি যদি ভুল করে কিছু খেয়ে ফেলেন, তাহলেও আপনার রোজা বৈধ থাকবে। তবে বোঝার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নামাজের আগে ওজুর সময় যদি আপনি অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি খেয়ে ফেলেন, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ এই ভুল এড়ানো সম্ভব।

সাব্বির হাসান বলেন, ‘এ কারণে রোজা রেখে ওজু করার সময় গারগল না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। শুধু কুলি করে পানি ফেলে দিন।’

অসুস্থ থাকলে রোজা রাখা আবশ্যিক নয়

মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) আন্তর্জাতিক গ্লুকোমা সমিতির সঙ্গে যৌথ একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে- রোজা রেখেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। যেমন চোখের ড্রপ।

এমসিবি বলেছে, চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ বা ইনজেকশনে রোজা ভাঙবে না। তবে যেসব ওষুধ মুখে দিয়ে খেতে হয়, সেগুলো নিষিদ্ধ। সেগুলো সেহরির আগে এবং ইফতারের পরই খেতে হবে।

এ প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘প্রথম কথা আপনি যদি অসুস্থ থাকেন, তা হলে ভাবতে হবে আপনি রোজা আদৌ রাখবেন কিনা? কারণ কোরআনে পরিষ্কার বলা আছে, আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলুন।যে কোনো পরিস্থিতিতেই রোজা রাখতে হবে

অসুস্থ, অ’ন্তঃস’ত্ত্বা, দুর্বল, ভ্রমণকারীর জন্য রোজা আবশ্যিক নয়। ইসলামে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক (সাধারণত ১৫ বছর) এবং সুস্থ ব্যক্তির রোজা ফরজ বা আবশ্যিক করা হয়েছে।

রোজা পালনে সেহরি ও ইফতারের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার রয়েছে যথেষ্ট গুরুত্ব। সেহরি খাওয়ার পর রোজা নিয়ত করা জরুরি।

রোজার নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

আরবি নিয়ত : নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলায় নিয়ত : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের আগ মুহূর্তে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া

اَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيْم – اَلَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ اَلْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْم

আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।

ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোয়া পড়ে ইফতার করা

اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِيْمِيْن

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি।

ইফতারের পর আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে দোয়া পড়া

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ

উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ : ‘ (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো ‘ (আবু দাউদ, মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সেহরির পর নিয়ত করা, ইফতারের আগে তাওবা-ইসতেগফার করা, ইফতারের সময় দোয়া পড়া এবং ইফতারের পর শোকরিয়া আদায় করে দোয়া পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।