Breaking News

অভুক্ত শতশত পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়



পাখিদের খাবার হিসাবে দেয়া হয় চানাচুর, মুড়ি, বিস্কুট, চাউল। কয়েক দিনেই পাখি গুলোর সাথে ট্রাফিক সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়ের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে বেশ কয়েক দিন ধরে জেলা শহরের বড় বাজার এলাকার হোটেল, ভাজার দোকান, মুদি দোকান, চায়ের দোকানসহ অন্য দোকান গুলো বন্ধ রয়েছে। এই সব দোকান থেকে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে পাখিদের খাবার দেওলয়া হতো। কয়েক দিন ধরে পাখিগুলো খাবার না পেয়ে ফিরে যায় অনাহারে।

ক্ষুধার্ত পাখিগুলোর কিচিরমিচির ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়। বর্তমানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় পাখিগুলো খাবারের জন্য রাস্তায় আসছে।শনিবার(২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে তিনি পাখিগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করছেন। সকালে যখন খাবার নিয়ে হাজির হন ঠিক তখন তাকে পাখিগুলো গাছ, বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদ থেকে উড়ে এসে ঘিরে ধরেন খাবার খাওয়ার জন্য। তিনি নিজ হাতে খাবার গুলো ছিটিয়ে দেন রাস্তায়, তখন পাখি গুলো খাবার খায়। প্রয়োজন মত খাবার খেয়ে পাখিগুলো ফিরে যায়। দিনে দুই বার সকাল ও বিকালে খাবার দেয়া হয় পাখিগুলোকে।

শালিক, চড়ুই, ঘুঘু, দোয়েলসহ বেশ কয়েক প্রজাতির পাখি দেখা যায়। খাবার দিতে একটু দেরি হলেই পাখি গুলো কিচিরমিচির করতে শুরু করে। পাখির কাছে তিনি আস্তে আস্তে হেটে আসতে শুরু করলেই পাখি গুলো শান্ত হয়ে যায়। পথচারী অনেকেই দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন এ মনোরম দৃশ্য।

মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টির মাঝেও তিনি খাবার দিতে ছুতে আসেন শতশত পাখিদের। বৃষ্টিও তার এ উদ্যোগকে থামাতে পারেনি। দায়বদ্ধতার কারণে ছুটে আসতে হয়েছে। তিনি আরো জানান, যত দিন এ দুর্যোগ থাকবে ততদিন পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করবেন। একটি পাখিও না খেয়ে থাকবে না। নিজ অর্থায়নে পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করছি।

পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় একটি ভাল কাজ করছে। শহরের দোকান ও হোটেলগুলো বন্ধ রয়েছে। তাই পাখিগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করছে নিজে থেকে। বিষয়টি আমি পুলিশ হেড কোয়াটাকেও জানিয়েছি। তাকে বলেছি, পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা নিয়মিত করতে।