যে অনুরোধ জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী বাড়ি মালিকদের প্রতি



এ সময় তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরা স জনিত সং কটের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এ সকল শিল্পের শ্রমিকরা সমস্যায় পরেছেন। এমতাবস্থায়, শ্রমিক ভাই-বোনদের সমস্যার কথা চিন্তা করে বাড়ি ভাড়া সহানুভূতির সাথে বিবেচনার জন্য বাড়ি মালিকদের প্রতি অনুরোধ করছি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সহানুভূতিশীল হলে খেটে খাওয়া শ্রমিক ভাই-বোনরা কিছুটা স্বস্তিতে বর্তমান সংক’ট উত্তরণে সক্ষম হবেন এবং আগামীতে রপ্তানি খাতে বেশি অবদান রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এদিকে বৈশ্বিক মহামা রি করোনাভাইরা সে (কোভিড-১৯) আক্রা ন্ত হয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্বে প্রা’ণহা’নির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮১৫ জনে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৫১ জন করোনা রো গী শনাক্ত হয়েছে। মোট সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২৫ জন। এছাড়া পাঁচজন মা রা গেছেন।

এই দুঃসময়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করতে বাড়িওয়ালাদের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।মেয়র বাড়ির মালিকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের বস্তি বা অন্যান্য যে সব এলাকায় থাকেন তারা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকেন। করোনাভাইরা সজনিত দুর্যো’গের কার ণে সে সব বস্তির নিয়ন্ত্রক বা বাড়িওয়ালাদের আহ্বান জানাব- এই দুঃসময়ে তাদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করুন।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের কার ণে বাড়িওয়ালা বা বস্তির ঘরের মালিকরা কিছুটা ক্ষ তিগ্রস্ত হলেও অসহা’য় এবং নিম্ন আয়ের মানুষরা অনেক বেশি লাভবান হবেন। এ দুর্যোগের সময় তারা কোনোরকম টিকে থাকার বড় সুযোগ পাবেন। আমাদের যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা অপেক্ষাকৃত ভালো রেখেছেন, তাদের সবাইকে অস’হায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাব।’

আতিকুল এখনও মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তাতে কী? করোনাভাইরা সের প্রভাবে ক্ষ তিগ্রস্ত অস’হায় দুস্থ মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, দিচ্ছেন আর্থিক সহায়তা। খাবার, পানীয় এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণও বিতরণ করছেন। কোনো দায়িত্বে অধিষ্ঠিত না থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, এটা প্রমাণ করলেন তিনি।

নতুন মেয়াদে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার বাকি ছিল প্রায় চার মাস। তিনি সে সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকেননি। সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম শুরু করেন।

পরবর্তীকালে ডিএনসিসিও বিভিন্ন কার্যক্রমে তাকে পাশে রেখেছেন। এখনও তার দায়িত্ব বুঝে পেতে প্রায় দেড় মাস সময় বাকি রয়েছে। কিন্তু গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে করোনাভাইরা স প্র’তিরো’ধে রাজধানীবাসীকে সচেতন করতে এবং নানাভাবে সহযোগিতা করতে দিন-রাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

‘সবাই মিলে, সবার ঢাকা’- মেয়র আতিকুলের এই সামাজিক আ ন্দোলনের ব্যানারে প্রতিদিন ২ হাজার অস’হায় ও দুস্থ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য উপকরণ।

গত ২৯ মার্চ থেকে এ উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। দুর্যো’গ চলাকালীন তার এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান আতিকুল। এ দিকে প্রথমে নিজ এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তা শুরু করলেও তার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

মঙ্গলবার বনানী ‘বি’ ব্লকের ১৪ নম্বর সড়কের ৭৭ নম্বর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবকরা একত্রে খাদ্য উপকরণ প্যাকেট করছেন। আর এ সব প্যাকেটজাত খাদ্য উপকরণ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সে সব এলাকার বেকার দিনমজুর, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এ সব উপকরণ বিতরণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, যারা প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল তারা এ সময় কিছুই করতে পারছেন না। এ জন্য নিজের উদ্যোগে তাদের জন্য খাবার দিচ্ছি। আমি আহ্বান জানাই আমাদের যার যা আছে তা নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াই।

ডিএনসিসির মেয়র বলেন, আমরা পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক লিটার ভোজ্যতেল এবং একটি হুইল সাবান দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমার কারখানায় বলে দিয়েছিলাম মাস্ক তৈরি করতে। যাদের খাবার দিচ্ছি তাদের এর সঙ্গে তিনটি মাস্কও দিচ্ছি। এগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসা হবে। কোনো জনসমাগম যাতে না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখা হবে।