করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঢাকাসহ দেশের ৬২টি জেলার সেনাবাহিনীর ৫২৫টি দল



এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। তাদের এমন তৎপরতা এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজধানীর বাসিন্দরা বাসায় সময় পাড় করেন। অতি জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হননি। তাই চিরচেনা ব্যস্ত শহররে নেমে আসে সুনশান নিরবতা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ওই ভাইরাস শনাক্তা করা হয়। এরপর থেকে সরকার নড়েচড়ে বসেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে ওই ভাইরাস মোবাকেলায় সরকারি ও বেসরাকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধের পাশাপাশি বন্ধ দেয়া হয় অফিস আদালতও। এমনকি সব ধরনের সভা-সমাবেশও করা হয় নিষিদ্ধ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ রাখার জন্য আদেশ দেয়া হয়। তাই রাজধানী ঢাকাকে ফাঁকা করে গ্রামে চলে গেছেন অনেকই। আর যানা ঢাকায় আছেন তারাও সরকারের আদেশ মেনে বাসায় অবস্থান করছেন।

গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার, পান্থপথ, ফার্মগেট, বাংলামটর, শাহবাগ, কাকরাইল, পল্টন, মতিঝিল, পশ্চিম তেজতুরি বাজার, পূর্ব তেজতুরি বাজার, আরামবাগ, মালিবাগ, মানিকনগর, ফকিরাপুল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ওইসব এলাকার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মানুষের আনাগুনাও নেই। এমনটি ওইসব এলাকার অলিগলির দোকানগুলোও রয়েছে বন্ধ। রাস্তা ঘটেও দুই একটি রিকশা, গণমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ছাড়া আর কোনো গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়নি।

গতকাল দুপুর ১২টায় পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকার গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একজন নিরাপত্তা কর্মী বসে আছেন। এসময় তিনি দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, আজ (গতকাল) সকাল থেকে আমি ডিউটি করছি। তবে বাসার লোকজন কেউ বের হচ্ছেন না। এছাড়াও সকালে এলাকায় পুলিশ ও সেনা সদস্যরা টহল দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মতিঝিল শাপলা চত্বর মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবুল হোসেন নামের এক রিকশা চালক দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, তিনি গতকাল সকাল থেকে রিকশা নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরেন। কিন্তু বিকেল তিনটা পর্যন্ত মাত্র একজন মাত্র যাত্রী পেয়েছেন। এছাড়াও নগরীর প্রতিটি এলাকা সুনসান নিরব বলেও জানা তিনি।

এদিকে, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬১টি জেলায় সেনাবাহিনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতররের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বর্তমানে বাংলাদেশের সংক্রমণ এবং বিস্তৃতির ঝুঁকি বিবেচনায় গত বুধবার থেকে সেনাবাহিনী কাজ করছে। এ ধারাবাহিকতায় গতকাল সেনাবাহিনীর ২৯০ টি দল দেশের ৬১ টি জেলায় করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে একযোগে কাজ করেছে। বাহিরে কোন ক্যাম্প স্থাপন না করে স্থানীয় সেনানিবাস সমূহ থেকেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে সেনাবাহিনীর আড়াই হাজারের বেশি সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর সমন্বয়ে সেনাবাহিনী বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করে। পাশাপাশি বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টিনের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এদিকে, গতকাল রাজধানীতে সেনাবাহিনী সদস্যরা টহলের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করতেও দেখা গেছে। এ সময় তারা বলছেন, ‘বিদেশ থেকে এসেছি যারা, তারা নিজ ঘরে অবস্থান করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জীবন-যাপন করুন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারে সহযোগিতা করুন।’ শুধু তাই নয়, তাদের টহলগাড়িগুলোতে লেখা আছে, ‘অপ্রয়োজনে কেউ নিজ ঘরের বাহিরে যাবেন না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করুন, বিদেশ ফেরত সকলে নিজ ঘরে অবস্থান করুন।’ এছাড়াও সচেতনতা সুষ্টিতে পায়ে হেঁটে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে ছুটে যাচ্ছে তারা। প্ল্যাকার্ড নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করছে সেনাবাহিনী। সেখানে কারো হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘ঘনঘন হাত ধুই, করোনা থেকে নিরাপদ রই’, ‘বিদেশ থেকে এসেছি যারা, কোয়ারেন্টাইনে থাকব তারা’। এছাড়া করোনা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করার আহŸান জানিয়ে প্ল্যাকার্ডে লেখা আছে, ‘আতঙ্ক না ছড়াই, সতর্ক থাকি সাহায্য করি’।

শুধু তাই নয়, রাজধানীর অলিতে-গলিতে দুই জন এক সাথে হাঁটা চলা করলেও তাদের আলাদা করে দিচ্ছে এবং বাসায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। আর কেন বাসা থেকে বের হয়েছে সেই কারণও জিজ্ঞাসা করা হয়। কাওরান বাজারের বাসিন্দা রমজান আলী জানান, তাদের এলাকায় দুই ব্যক্তি এক সাথে জরুরি কাজে রাস্তায় বের হন। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রাস্তায় হাঁটার পরমর্শ দেন। এমন পরামর্শে স্থানীরাও খুশি বলে জানান তিনি।