Breaking News

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সিগারেট খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২



কো’ভিড-১৯ ভা’ইরা’সে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সিগারেট খাওয়া নিয়ে দুই গ্রুপের সং’ঘ’র্র্ষে খু’ন হয়েছেন দুই জন।

নি’হ’ত দুজন বেক্তি হলেন মোহাম্মদ জাহিদ ও মোহাম্মদ শাহিন। জাহিদ পূর্ব আমিরাবাদ গ্রামের আব্বাস উদ্দিনের ছেলে এবং শাহিন ভুইয়া পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সুজনের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার পৌর সদরের দক্ষিণ মহাদেবপুরে দুই কিশোর গ্যাং’য়ের মধ্যে সং’ঘ’র্ষে এই হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটে বলে জানা যায়।

সীতাকুণ্ড মডেল থা’নার ভারপ্রাপ্ত পু’লিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রেখে সিগারেট খাওয়া নিয়ে ঝ’গড়া হয় দুই বন্ধুর মধ্যে। এ নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরো’ধ তৈরি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি সমাধানের নামে দুই গ্রুপ এক হয় স্থানীয় রেললাইনে এবং এক পর্যায়ে দুই কিশোর গ্যাং সেখানে সং’ঘ’র্ষে জড়িয়ে যায় । এ সময় তারা ধা’রালো অ’স্ত্র নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর হা’ম’লা চালায়।

হা’ম’লায় মোহাম্মদ জাহিদ ও মোহাম্মদ শাহিন গু’রুত’র আ’হ’ত হন বলে জানা যায় । তাদেরকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় বলে জানানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন ঐদিন রাত দুইটায় ও অপরজন শুক্রবার সকাল ৭টায় মা’রা যায় বলে নিশ্চিত করেন এ পু’লিশ কর্মকর্তা।

‘সমির ডাক্তার’ কি তাহলে বঙ্গবন্ধুর খু’নি মোসলেহ উদ্দিন নয়?

পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণার ইউনানি ডাক্তার সমির কুমার দত্ত আর বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত পলা’তক খু’নি রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনকে নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো বলছে খু’নি মোসলেউদ্দিন ‘সমির ডাক্তারের’ পরিচয়ে আ’ত্মগো’প’ন করেছিলেন। পরে তাকে আ’ট’ক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

আবার কলকাতার কিছু পত্রিকা ও গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে ঘুরে এসে বলছেন, সমির ডাক্তার মা’রা গেছেন। আর প্রমাণ হিসেবে তার শেষ শ’য্যা কৃ’ত্যের ছবিসহ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। পরিবার ও প্রতিবেশীরা বলছেন, গত ১০ জানুয়ারি সমির ডাক্তার মা’রা গেছেন। তাকে দা’হ করা হয়েছে।

অপরদিকে, সমির দত্তকে আ’ট’ক করতে তার বাড়িতে পু’লিশি অভি’যানের সময় পরিবারের সদস্যরা কিছু তথ্য আড়াল করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। গাইঘাটার পু’লিশ মোবাইলে মোসলেহ উদ্দিনের ছবি সমিরের পরিবারের সদস্যদের দেখালে তারা চেনেন না বলে জানান। তবে এক ফাঁকে পু’লিশ সদস্যরা ঘরের ভেতর থেকে সমির দত্তের ছবি মোবাইলে তুলে নেয়।

আ’ইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ধারণা, মোসলেউদ্দিনকে আড়াল করতেই সমিরের মৃ’ত্যুর বিষয়টি সামনে আনতে চেষ্টা করা হয়েছে। এই ফাঁকে সমির ডাক্তার নিজেকের আড়ালের চেষ্টা করেছে। তবে শেষ অবধি সমিররূপী মোসলেউদ্দিন গোয়ে’ন্দাদের জালে আ’ট’কে গেলে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

এমন সংবাদ ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকাগুলোতে উঠে এসেছে। সেসব সংবাদের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির পত্রিকাগুলোও খবর প্রকাশ করেছে। দিনতারিখ ঠিক করে তথ্য দেয়া হয় যে, বঙ্গবন্ধুর খু’নি মোসলেউদ্দিনকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আর বাংলাদেশের গো’য়েন্দারা তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও বাংলাদেশের কোনো পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়নি যে মোসলেউদ্দিনকে ভারত থেকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালগোল পাকানো এসব সংবাদ নিয়ে তুমুল আলোচনা বিত’র্ক চলছে দুই দেশেই। কলকাতায় দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আ’ত্মগো’প’ন করে থাকা বঙ্গবন্ধুর খু’নি আব্দুল মাজেদ গ্রে’প্তা’র ও তার ফাঁ’সি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এসব আলোচনা শুরু হয়। ফাঁ’সি কার্যকর হওয়ার আগে মাজেদ বঙ্গবন্ধুর বাকি খু’নিদের স’ম্পর্কে তথ্য দিয়ে গেছে- এমনটাই বিশ্বাস সবার। মাজেদের দেয়া তথ্যেও ভিত্তিতেই কলকাতায় আ’ত্মগো’প’ন করে থাকা মোসলেউদ্দিনকে ধরার অভি’যানে নামে কলকাতা পু’লিশ।

তবে পু’লিশি অভি’যানের পর থেকেই নানা ‍গু’ঞ্জন শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমগুলো বলছে, মোসলেহউদ্দিন আ’ত্মগো’প’ন করেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার যশোর রোড সংলগ্ন ঠাকুরনগরে। শহর কলকাতা থেকে যা ১০০ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত। আর এই এলাকায় মোসলেহউদ্দিন তার পরিচয় আড়াল করতে নাম বদলে হয়ে যান সমীর কুমার দত্ত। পেশা হিসেবে বেছে নেন ইউনানি চিকিৎসা। ‘দত্ত ডাক্তার’ নামে খ্যাতিও অর্জন করেন।

তাহলে কীভাবে সেখানে পৌছেছিলেন মোসলেউদ্দিন? এমন প্রশ্ন উঠলে জানানো হয়, আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে সমীর কুমার দত্তরূপী মোসলেউদ্দিনের সঙ্গে দমদমে পরিচয় হয় পরেশ চন্দ্র অধিকারীর। অভুক্ত বেকারের মতো দমদম স্টেশনে পড়ে থাকতেন সমীর।

অপরদিকে ইউনানি চিকিৎসক ছিলেন পরেশ চন্দ্র অধিকারী। পরিচয়ের পর তার হয়েই পথে পথে পোস্টার লাগাতেন সমীর দত্ত। ধীরে আলাপ আর বন্ধুত্ব জমে উঠে দুজনের মধ্যে। এরই মধ্য দিয়ে মোসলেউদ্দিন স্থায়ী আশ্রয় আর পরিচয় আড়াল করার অপূর্ব সুযোগ পায়।

তবে সর্বশেষ খবরে যদি সমির ডাক্তার মা’রা গিয়েই থাকেন তাহলে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা ব্যক্তিটি কে? তাহলে কি সমির দত্ত বলে যে লোকটিকে আমরা মোসলেউদ্দিন বলছি সেটা কি মি’থ্যা?