করোনা শনাক্তের কিট আবিষ্কার করল আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়



মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে। এদিকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শনাক্ত করতে টেস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলছেন ভারতের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ঠিক এমন অবস্থায় পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক দেশীয় প্রযুক্তিতে করোনা ভাইরাস টেস্টের কিট আবিষ্কার করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামিস্ট্রি বিভাগের পরিচালক নাদিম রহমান জানান, মাত্র ১৫ মিনিটে এই কিট ব্যবহার করে কোভিট-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তারা আরও জানান, মাত্র ৫০০ রুপিতে এ টেস্ট কিট তৈরি করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, অ্যান্টিবডি পরীক্ষার প্রাধান্য দিয়ে তৈরি এ কিট পুরো ভারত বর্ষে কোভিট-১৯ রোগী শনাক্ত নিয়ে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

এদিকে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করা এ কিটগুলো ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে। এবং তা দ্রুত নিয়মিত উৎপাদনে যাবে বলে জানিয়েছেন নাদিম রহমান।

করোনার বিধ্বংসী শক্তি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নরকম। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেনে করোনার যে তীব্রতা বাংলাদেশে বা ভারতে তেমন নয়। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার মৃত্যুহার অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এর মতামত এমনটাই।

যুক্তরাষ্ট্রের এ গবেষণা সংস্থার মতে, ভারতসহ দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় করোনাভাইরাসের যে সাব-টাইপ ছড়িয়েছে সেটি ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশের মতো মারাত্মক নয়। এর ধ্বংসের ক্ষমতা করোনার সব টাইপের তুলনায় অনেকটাই কম।

মার্কিন সংস্থাটির গবেষকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে তা নিয়ে গবেষণা চালান। এবং নিজেদের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে করোনাকে তিনটি উপজাতিতে ভাগ করেছেন তারা। কোভিড -১৯ এর এই তিনটি বিভাগকে এবি এবং সি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ এবং সি’র তুলনায় বি অনেকটাই দুর্বল।

মার্কিন গবেষণা সংস্থাটি বলছে, ভারত দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ায় এ ভাইরাসের বি উপজাতিটিই ছড়িয়েছে।