Breaking News

১ দিনে ১ জেলাতেই করোনায় আক্রান্ত ১০৬ জন



গাজীপুর জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় অর্থাৎ ১ দিনে নতুন করে ১০৬ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে এই জেলায় এখন এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৯ জনে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত হয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলার করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, গাজীপুরে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত ১৭৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আরও ১০৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৭৯ জন।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় সবশেষ এই হালনাগাদ তথ্য না থাকায় তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন।

চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত মাশরাফির নানা

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদ্য বিদায়ী অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফি বিন মুর্তজার নানা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। তার নাম ডা. মাসুদ আহমেদ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিনি।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস বিস্তারের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন ডা. মাসুদ আহমেদ। এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হলেন তিনি। খুলনা জেলায় তিনিই প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়া চিকিৎসক।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবদুল আহাদ জানান, ডা. মাসুদ আহমেদের শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে আমরা তাকে আইসোলেশনে নিই। শনিবার তারসহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৬টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে একমাত্র করোনা শনাক্ত হওয়া রোগী মাসুদ আহমেদ। এ খবরের পর হাসপাতালের যে রেস্ট হাউসে থাকেন ডা. মাসুদ আহমেদ, সেখানে আরও ১২ চিকিৎসককে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। আজ তাদের সবার করোনা টেস্ট করা হবে।

উল্লেখ্য, ডা. মাসুদ আহমেদ মাশরাফির নানির খালাতো ভাই। দূর সম্পর্কের নানা হলেও ডা. মাসুদ আহমেদকে খুব ভালোবাসেন মাশরাফি। প্রিয় নানা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর শোনার পর থেকেই বেশ উদ্বিগ্ন রয়েছেন মাশরাফি।

মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকেন, আল্লাহ নিশ্চয় শুনবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেখানে কাবা শরীফে কারফিউ দেয়া হয়েছে, সেখানে বলব, মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকেন; আল্লাহ নিশ্চয় শুনবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষার যে নির্দেশনা, সবাই দয়া করে সেটা মেনে চলবেন। তাহলে কেউ করোনা ঝুঁকিতে পড়বেন না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার সব নির্দেশনা মেনে চলবেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এসব কথা বলেন সংসদ নেতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতি এখনও বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, সেখানে আমরা ভালো আছি। আমরা বার বার ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আসলে মানুষ কেন যেন বেশি সাহসী হয়ে গেছে। অনেকে মানতেই চায় না। আমি সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ করছি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এ রকম একটা ঝড় উঠবে তা কল্পনার অতীত ছিল। আসলে ভাইরাসসহ সংক্রামক রোগের কোনো পূর্বের অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইড লাইন অনুসরণ করে আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা থেকে আমরা কতগুলো পদক্ষেপ সঙ্গে সঙ্গে নিতে থাকি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিই। প্রত্যেকের যাতায়াত আমরা সীমিত করে দিই। আমরা বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর বন্ধ করে দিই। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন সব জায়গায় আমরা বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করি।

শেখ হাসিনা বলেন, এ করোনা নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। অনেক চিন্তা হচ্ছে। অনেকেই বলছে শীত হলে বেশি হয়, গরম হলে কমে। আবার বলে গরম হলেও থাকবে। এর স্থায়িত্ব কী, অদ্ভুত একটা অবস্থা সারাবিশ্বে। কত শক্তিশালী দেশ, কত তাদের শক্তিশালী অস্ত্র। কোনো কিছুই কাজে লাগছে না। একটা ভাইরাস যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু তার কারণে সারাবিশ্ব স্থবির। সারাবিশ্বের মানুষ ঘরেবন্দি। এ রকম অদ্ভুত পরিস্থিতি বোধ হয় আর কখনো হয়নি।