Breaking News

একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিন যত যাচ্ছে ততই দীর্ঘ হচ্ছে করোনা আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইনে বুলেটিনে এ সব তথ্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তার সঙ্গে ছিলেন অধিদফতরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ২৭৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ ৪৯২ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। আর এ নিয়ে দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৪৮ জনে। গতকালের চেয়ে করোনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫.৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া করোনায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারালো ১০১ জন। আজকে নতুন করে যে ১০ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী। এছাড়া হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

এর আগে গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ৩১২ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ২৪৫৬ জন হয়েছে। একদিনে আরও ৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ জন। গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও নয় জন। এ পর্যন্ত মোট ৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ২৯০ জন।

এদিকে সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ লাখ ৬ হাজার ৯১০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়ার্ল্ডওমিটারে এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৬ লাখ ১৭ হাজার ২৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৮২৮ জন। এদের মধ্যে ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৬১০ জনের জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও এবং ৫৪ হাজার ২১৮ জনের অবস্থা গুরুতর।

ভাইরাসটির আক্রমণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের। সেখানে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩৬ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৪০ হাজার ৫৫৫ জন।

মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরে অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৪৫৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭২ জন।

মৃত্যুর হিসাবে ইতালির পরের অবস্থানেই রয়েছে স্পেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৪৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে অবশ্য ২য় অবস্থানে রয়েছে এ দেশটি। এখানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৭৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

মৃত্যুর তালিকার চার নম্বরে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৭১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৪ জন।
মৃত্যু তালিকায় ফ্রান্সের পরের অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ ব্রিটেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৩২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ হাজার ৬২১ জন।

এদিকে জার্মানিতে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪২ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৪২ জনের। যুক্তরাজ্যে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৬০ জনের। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় চীনে। সেখানে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ হাজার ৩০৬ জন এবং মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩২ জন। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইরানে।

২০ এপ্রিল (সোমবার) এর আপডেট
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট
শনাক্ত ৪৯২ ২৯৪৮
মৃ্ত্যু ১০ ১০১
সুস্থ ১০ ৮৫
পরীক্ষা ২৭৭৯ ২৬৫০৬