Breaking News

করোনা : অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের স্থায়ী বরখাস্ত, শিগগির নির্বাচন

করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও ত্রাণ ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও চুরির ঘটনা ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন দেলওয়ার হোসেন।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের অনেকেই অনিয়মের দায়ে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে তাদের স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিগগির নতুন নির্বাচন হবে। নতুন এ নির্বাচনে তারা আর অংশ নিতে পারবেন না।

এ ছাড়া আরও দুই শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য সরকারের নজরদারিতে রয়েছেন। অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত জনপ্রতিনিধিদের ধরতে মাঠে নামানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের সব বিভাগীয় কার্যালয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। অভিযোগ পেলে দুদকও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। সরকারি কোনো কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে সরকার।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সরকারি ত্রাণ ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে এরই মধ্যে বেশকিছু ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সেই নোটিশের জবাব পাওয়া যাবে। যাদের জবাব অসন্তুষ্ট মনে হবে, তাদের স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্নিষ্ট আসন শূন্য ঘোষণা করে শিগগির নতুন নির্বাচন দেয়া হবে। কারও বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তাদের ব্যাপারেও তদন্ত শেষে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ওএমএম ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে আগেও অনিয়ম হতো। বর্তমানে কঠোর নজরদারির ফলে অনেকে ধরা পড়ছেন। যারা ধরা পড়ছেন তাদের নামে ফৌজদারি মামলা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (ইউনিয়ন পরিষদ-১) মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে মন্ত্রণালয় আরও বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আগে জনপ্রতিনিধিদের কোনো অনিয়মের দায়ে শুধু বরখাস্ত করা হতো। এখন ফৌজদারি মামলা এবং জেলে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে। তাদের বেঁচে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, সাময়িক বরখাস্তকৃত জনপ্রতিনিধিদের বেশিরভাগই ত্রাণ ও চাল চুরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে সংশ্নিষ্ট চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নোটিশের জবাব পেলে স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে। এর মধ্যে আরও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদেরও সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ১২ জন চেয়ারম্যান ও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। এই চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অপরাধমূলক কার্যক্রম জনস্বার্থের পরিপন্থি বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সময় কারণ দর্শানো নোটিশে কেন চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাবপত্র পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে। ৩৫(খ) ধারা অনুযায়ী কোনো চেয়ারম্যান ও সদস্য সাময়িক বরখাস্ত বা অপসারিত হলে তার পদ শূন্য হবে। ৩৬ ধারা অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা ও ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের এমন কর্মকাণ্ড জাতির জন্য অবমাননাকর। এ জন্য আরও মনিটরিং বাড়াতে হবে। সরকার অনেক বেশি প্রশাসননির্ভর হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পরিষদকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। কারণ, জেলা ও উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরাও বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি। আর সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষ খুঁজে বের করা কঠিন। তাই জেলা ও উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা যুক্ত হলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা আরও সহজ হবে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এই দুর্যোগকালে সরকারি ত্রাণ ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিষয়ে জেলা প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখছে। সরকারি চাল বা অন্যান্য ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। অনিয়মের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দেয়া হয়। তারা পরবর্তী আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

দেশের যেসব উপজেলায় ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে (টিসিএফ) সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ বলেন, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। শুধু টিসিএফ নয়, খাদ্য বিভাগের যারই জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাবে তাকেই বরখাস্ত করে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি।