Breaking News

যে খাবারে বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা



আট কুঠরি নয় দরজার মানবদেহ সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য সৃষ্টি ও রহস্যের প্রাচুর্য। মাতৃগর্ভে

একটি ভ্রূণের বিকাশ ঘটে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে। বিকশিত ভ্রূণটি ধীরে ধীরে মানবশিশুতে পরিণত হয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকে শুরু হয় জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

এ যুদ্ধজয়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রোগ্রাম মানবদেহেই ইনস্টল করা থাকে। সময়ের সঙ্গে এ ব্যবস্থার বিকাশ হতে থাকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে লক্ষ কোটি অণুজীব রয়েছে। এদের কতগুলো ক্ষতিকর আর কতগুলো অক্ষতিকর।

মানবদেহের একটি অত্যন্ত জটিল জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া রয়েছে যা দেহের ভেতরে-বাইরে

সক্রিয় থেকে দেহকে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এ ব্যবস্থাকে বলা হয় মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইমিউনিটি।

নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসে এই ইমিউনিটিকে শক্তিশালী রাখতে পারলে যে কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা গড়ে তোলা সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আমাদের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখতে হবে। ইমিউনিটি বাড়ানোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সাধারণ স্বর্দি, জ্বর, ফ্লু বা ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য ব্যবস্থার পাশাপাশি নিম্নোক্ত উদ্ভিজ্জ উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন-

রসুন : এক কোয়া রসুনে ৫ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ১২ মি.গ্রা. পটাশিয়াম এবং পর্যাপ্ত সালফিউরিক উপাদান থাকে। অতি প্রাচীনকাল থেকে সর্দি, জ্বর, কাশি নিরাময়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেহে অনুপ্রবেশকারী পরজীবী ধ্বংস করে। উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রক। ক্ষতপূরণে ব্যবহৃত হয়।

আদা : এটি প্রদাহজনিত সমস্যায় ফলদায়ক। গলা ব্যথা, হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা এবং সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় কাজ করে।

চা : এর ফ্ল্যাভিনয়েড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর ইজিসিজি (Epigallocatechin gallate) ইমিউন সিস্টেমকে গতিশীল করে। চায়ে এল-থিয়ানিন নামে অ্যামিনো এসিড থাকে যা শ্বেত রক্তকণিকার জার্ম-ফাইটারদের শক্তি জোগায়।

কালোজিরা : এতে ভিটামিন এ, সি, ডি ও বি-৬ থাকে। পর্যাপ্ত সোডিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। শ্বসনতন্ত্র ভালো রাখে। জ্বর, সর্দি, কাশি, গায়ের ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিরাময় করে। অন্ত্রের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে। এতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে।

আপেল : এতে ভিটামিন এ, বি-১, বি-২, ই এবং সি থাকে। এটি ইমিউনিটি বুস্ট-আপ করে।

পেঁপে : প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। এর পেপেইন এনজাইম প্রোটিন পরিপাকে অত্যন্ত কার্যকর। পটাশিয়াম, ভিটামিন বি এবং ফলেট থাকায় ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে।

সাইট্রাস জাতীয় ফল : এগুলো হল ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার। এসব ফলের উপাদানগুলো রক্তের শ্বেতকণিকাকে অধিক কর্মক্ষম করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। শ্বসনযন্ত্রের প্রদাহ দূর করে। নিউমোনিয়া জাতীয় সমস্যা নিরাময়ে সহায়তা করে।

পালংশাক : এটি ভিটামিন সিসমৃদ্ধ। বিটা-ক্যারোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে। এতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ ও ফলেট থাকে।

ব্রোকলি : প্রতি ১০০ গ্রামে ৮৯ মি.গ্রা. ভিটামিন সি থাকে। এছাড়া ভিটামিন এ, ই এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। ইমিউনিটি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা অনেক।

বাঁচতে হলে জানতে হবে, মানতে হবে। আসুন আমরা করোনাভাইরাসের বিষয়ে সচেতন হই। নিজ দেহের প্রহরীদের জাগ্রত রেখে ইমিউনিটি বাড়াই। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলি। ঘরে থাকি, নিরাপদ থাকি আর সবাইকে নিরাপদ রাখি। নিজে ভালো থাকি, দেশকে ভালো রাখি।