Breaking News

দেশের প্রথম ‘শহীদ’ করোনা যোদ্ধাকে মাশরাফির স্যালুট



বিশ্বজুড়ে আত’ঙ্কের নাম করোনা ভাই’রাস। প্রাণঘা’তী করোনা যখন একের পর এক শরীরকে ধ্বং’স করে চলছে, তখন তাকে প্রতিহত করার জন্য সংগঠিত হয়েছেন দেশের বীর সন্তানেরা। নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে মানুষের সেবায় দিনরাত এক করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ৷ তবে দুঃখজনকভাবে, গতকাল করোনা যু’দ্ধের প্রথম যো’দ্ধা ডা. মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।

তিনি ছিলেন সিলেটের প্রথম করোনা রোগী। গত ৫ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসার পর বেশ কয়েকদিন করোনার সঙ্গে যু’দ্ধ করে অবশেষে গতকাল বুধবার ভোর চারটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি । এরপর রাত আটটা নাগাদ সুনামগঞ্জের ছাতকে মা-বাবার পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের মৃ’ত্যুর খবর শোনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যান্য গণমান্য ব্যক্তিরা।

আর আজ সকালে ফেসবুকে করা একটি পোস্টের মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন নড়াইল – ২ আসনের এমপি ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সুপারস্টার মাশরাফি বিন মর্তুজা । পোস্টটির সঙ্গে থাকা বিশাল ক্যাপশনে মরহুম ডাক্তারকে স্যালুটও করেছেন মাশরাফি।

পোস্টটিতে যুক্ত থাকা ছবিতে ডাক্তারের ছবির পাশাপাশি ছিল এমিলি পটারের বিখ্যাত উক্তি, ‘বীরেরা কখনো মরেন না। তাঁরা সর্বদাই তাদের হৃদয় এবং মনে জাগ্রত থাকেন যারা তাঁদের (বীরদের) পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেন। ‘ অন্যদিকে পোস্টটির সঙ্গে থাকা মাশরাফির বিশাল ক্যাপশনটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো:-

সবাইকে শোকে ভাসিয়ে চলে গেলেন এক মহৎ প্রাণ ডাক্তার! করোনাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে গতকাল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মানবিক ডাঃ মোঃ মঈন উদ্দিন চলে গেলেন না ফেরার দেশে! তিনি ছিলেন করোনাভাই’রাস প্রতিরোধে ফ্রন্ট লাইনের যো’দ্ধা। তাঁর এই মৃ’ত্যু হৃদয় বিদীর্ণ করার মত।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাই’রাসের ছোবলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আক্রান্ত। দেশের এই মহাক্রান্তিকালে ডা. মঈন উদ্দিন ছিলেন দেশের মানুষের জন্য আত্মোৎসর্গীকৃত। মৃ’ত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত একজন মানবসেবী হিসেবে মানুষের সেবা করে গেছেন তিনি। নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁ’কি নিয়ে মানুষকে তিনি চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি তার এই আত্মত্যাগ শব্দ-বাক্যে প্রকাশের মত নয়। মানবতার জয়গান গাওয়া ক্রান্তিকালের এই যো’দ্ধাকে নিশ্চয় গোটা জাতি আজীবন পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।

আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সবশেষে আমি এই বীরযো’দ্ধাকে জানাচ্ছি- “স্যালুট”।