পরকীয়া নয় জানা গেল যে কারণে ফেসবুক লাইভে খু ন



ফেনীতে পারি’বারিক ক’লহের জে’র ধরে সামা’জিক যোগা’যোগ’মাধ্যম ফেস’বুকে লা’ইভে এসে তাহমিনা আক্তার (২৮) নামের এক গৃহ’বধূকে কু’পিয়ে হ’ত্যা করেছে তার স্বামী। এই ঘটনায় স্বামী ওবায়দুল হক ভূঁঞা টুটুলকে গ্রে’প্তার করেছে পু’লিশ। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) এ ঘ’টনা ঘ’টে।

ফেনী শহরের বারাহীপুরে এ হ’ত্যাকা’ন্ডের ঘ’টনা ঘটে। মেয়েকে হ’ত্যার অভি’যোগ এনে টুটুলের বিরু’দ্ধে ফেনী মডেল থানা’য় মাম’লা দায়ের করে নি’হত তাহমিনার পিতা সাহাবউদ্দিন। সাহাবউদ্দিন জানান পাঁচ বছর আগে টুটুল ও তাহমিনা প্রে’ম করে বি’য়ে করে। তাহমিনা চট্টগ্রাম একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করত।

এদিকে, তাহমিনা আক্তারের বোন রেহানা আক্তার অ’ভিযোগ করেছেন টাকার জন্যই তার বোনকে এভাবে নিঃ’শৃং’সভাবে হ’ত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ”‘খু’নের দিন সকালে আমার বোনকে পরিবারের সবাই নির্যা’তন করেছে। তারা আগেও আমার বোনকে মে’রেছে। টাকার জন্য টুটুল প্রায় আমার বোনকে মার’তো। সে খু’ন করার হু’মকি দিত।’

বিয়ের শুরু থেকে বিভিন্ন সময় টু’টুলকে টাকা দিতে হত বলে তিনি জানান, ‘কিছুদিন আগ পর্যন্ত টুটুলকে ৭৫ হাজার টাকা ভাগে ভাগে দেয়া হয়েছে। টাকার জন্য সে তাহমিনাকে চা’প দিত। দেড় বছর আগে তাদের একটি মেয়ে হওয়ার পর টুটুলের পরিবার বিয়ে মেনে নেয়।

রেহানা আরও বলেন, ‘ছয় মাস আগে টুটুল, তার মা, বোন বৃষ্টি ও ভাই মেহেদী তাহমিনাকে খুব মা’রধর করে। দুই মাস আমাদের বাড়িতে থেকে সুস্থ হওয়ার পর আবার শ্বশুর বাড়ি ফিরে যায়। টাকা দিলে কিছুদিন ভালো থাকে, এরপর আবার আবার নির্যা’তন শুরু হয়। নিজের পছন্দে বিয়ে করায় তাহমিনা কখনো শ্বশুরবাড়ির বদনা’ম করতে চাইতো না।’

এদিকে তাহমিনার বাবা সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘জামাই একা আমার মে’য়েকে খু’ন করে’নি, টুটুল যেভাবে তার মা, বোন, ভাইকে আলা’দা কক্ষে বেঁ’ধে রেখে তাহ’মিনাকে হ’ত্যা করেছে তা অ’বিশ্বাস্য।’ সাহাবউদ্দিন আরও বলেন, কয়েক সাপ্তাহ আগে নিজ গ্রাম গুনবতীতে একটি এনজিও হতে সু’দের ওপর ১৫ হাজার টাকা নিয়ে মেয়ের সুখের জন্য টুটুলকে দেন।

টুটুলের পরিবারের সদস্যরা হত্যা’কান্ড ও তাহমিনাকে বিভিন্ন সময়ে নির্যা’তনের বিষয়ে কথা বলতে অস্বী’কৃতি জানায়। অন্যদিকে টুটুলের ছোট ভাই মেহেদী বলেন, ‘ভাবীর অন্য কোথাও স’ম্পর্ক আছে, এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার সূত্র ধরে হ’ত্যার ঘটনা ঘটেছে।’

টুটুল ভুইয়া নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বুধবার দুপুর সোয়া একটার দিকে লাইভে এসে এমন নৃ’শং’স দৃশ্যের অবতারণা করে অ’ভিযু’ক্ত স্বামী।

এই ঘটনার পর হ’ত্যার অ’ভিযো’গে স্বামীকে আ’ট’ক করেছে পু’লি’শ। তার পুরো নাম ওবায়দুল হক টুটুল ভুইয়া। নৃ’শং’স’তার শিকার নারীর নাম তাহমিনা আক্তার।

ফে’সবু’ক ভি’ডিওতে দেখা যায়, খু ন করার আগে টুটুল বলছিল, একজনের জন্য তার পরিবার ধ্বং’স হয়ে গেছে। ৮ মাস বয়সে তার মেয়েকে রেখে চলে যায় সে। তার সারাজীবন ধ্বং’স হয়ে গেছে তার স্ত্রীর জন্য এমন দাবি করে ক্ষো’ভ প্রকাশ করতে করতে এক পর্যায়ে স্ত্রীকে এলো’পাতা’ড়ি কো’পাতে থাকে টুটুল। কো’পানোর পরপরই নিস্তেজ হয়ে যান ভু’ক্তভো’গী নারী।

এরপরই টুটুল বলতে থাকে, সে এখন শেষ। আপনারা আমার বাবা-মা ও এতিম মেয়েকে দেখে রাখবেন। এই খু নের সাথে তিনি নিজেই জ’ড়িত এবং অন্য কেউ এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, এমনটা বলতে থাকেন তিনি।

লাইভ ভি’ডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “সবাই আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন ও অনাথ মেয়েটার খেয়াল করবেন”। খু ন করার লাইভ ভি’ডিওর পর, একটি মেয়েকে নিয়ে আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে টুটুল ভুইয়া। সেখানে তার দাবি, তার মেয়ের যখন ৮ মাস বয়স তখন সে (তার স্ত্রী) ছেড়ে চলে যায়। এখন আবার সে ফেরত এসেছে।

তার পুরো পরিবার ব্ল্যা’কমে’ইল করে অনেক সমস্যায় ফেলেছে। বাচ্চা মেয়েটাকে অনেক নি’র্যাত’ন করা হয়েছে। এরপর তিনি নিজেও আ’ত্মহ’ত্যার ইঙ্গিত দেয় ওই ভি’ডিওতে। তবে খু ন করার লাইভ ভি’ডিওটি ঘণ্টাখানেক পর আর টুটুলের প্রোফাইলে পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার পরপরই টুটুলকে ফেনীর বাড়ি থেকে আ’ট’ক করে পু’লি’শ। ফেনী সদর থা’নার ওসি আলমগীর বলেন, হ’ত্যায় অ’ভিযু’ক্ত টুটুল ভুইয়ার বাড়ি ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়াঈপুর এলাকায়। টুটুল ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। সন্তানদের নিয়ে তার স্ত্রী বাড়িতেই থাকতো।

টুটুল পু’লি’শকে জানিয়েছে, সে ঢাকায় থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা প’রকী’য়া’য় জ’ড়িয়ে পড়ে। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। তাহমিনার বাড়ি থেকে টাকা চেয়ে মান’সিক হ’য়রা’নি করা হতো বলে দাবি করেন টুটুল। আ’ট’কের পর টুটুল পু’লি’শের কাছে খু নের কথা স্বীকার করে।

পু’লি’শ জানিয়েছে, টুটুলের প্রোফাইলে লাইভ ভি’ডিও তারা পায়নি। তবে, তার পোস্টগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।