খাবারের জন্য ফেসবুকে আর্তনাদ, বাসায় চাল-ডাল নিয়ে হাজির পুলিশ



খাবারের জন্য ফেসবুকে আর্তনাদ- করোনাভা’ইরা’সের সং’ক্রম’ণ রোধে জনসমাগম এড়াতে ছুটিতে রয়েছে দেশ। অ’ত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না নগরবাসী। এতে বি’পা’কে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

এমনই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৩১ মা’র্চ) যাত্রাবাড়ীর এক নারী ফেইসবুক লাইভে খাবারের জন্য আ’র্তনা’দ করেন। বিষয়টি নজরে আসার পর বুধবার সকালেই ওই বাসায় চাল-ডাল নিয়ে হাজির হয় পু’লি’শ।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সুতিরখালপাড়ের এক নারী ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রী বরাবর সাহায্যের আবেদন করে লেখেন, ‘আমা’র স্বামী নেই, তিনটি ছোট ছোট সন্তান নিয়ে না খেয়ে আছি।’

তার এই আ’র্তনা’দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাত ২টায় এই বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থা’নার ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তার (ওসি) নজরে আসে। এরপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই নারীর বাসায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।

যাত্রাবাড়ী থা’নার ওসি মাজাহারুল ইস’লাম বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর আমি বুধবার সকালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল নিয়ে ওই বাসায় যাই। সেখানে যেয়ে দেখি ছোট একটি রুমে তিন সন্তান নিয়ে থাকেন ওই ভদ্রমহিলা।

ওই নারী বলেন, আমি কল্পনাও করিনি ওসি নিজেই আমা’র বাসায় চাল-ডাল নিয়ে আসবেন, তাও এত দ্রুত সময়ে পটুয়াখালীতে বিদেশ ফেরত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ইতালি প্রবাসীর ফোন পেয়ে বাসায় নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার নিয়ে বাসায় হাজির হলো পু’লি’শ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে শহরের কলেজ রোড এলাকার ইতালি প্রবাসীর বাসায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পানি এবং ফল পৌঁছে দেয় সদর থা’না পু’লি’শের সদস্যরা।

পু’লি’শ সদস্যদের হাতে বাজারের ব্যাগে ইতালি প্রবাসীর বাসায় পেঁয়াজ, রসুন, আলু, ডাল, আঙ্গুর, আপেল, মাল্টা, খাবার পানি ছিলো। ইতিমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সদর থা’নার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ইতালি প্রবাসীর বরাত দিয়ে বলেন, সদর থা’নার সরকারি নাম্বারে সকালে এক ইতালি প্রবাসী জানান, চারদিন হলো সে দেশে এসেছি। হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। তার বাসায় খাবার সং’ক’ট দেখা দিয়েছে। সে সচেতন তাই দেশে ফিরে চারদিন ধরে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে তিনি গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন, হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা নাগরিকদের সেবায় সার্বক্ষণিক পু’লি’শ সদস্যরা নিয়োজিত আছে এবং বাসার খাবার সং’ক’ট দেখা দিলে পু’লি’শ তাদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।

এছাড়াও যেহেতু সে উন্নত বিশ্বে থেকে এসেছে, বাংলাদেশে উন্নত বিশ্বের মতো ইকুইপমেন্ট নেই। তাই সে থা’নায় কল দিয়ে বিষয়টি জানানোর পরে তার খাদ্যদ্রব্যের লিষ্ট মোতাবেক বাজার থেকে খাদ্য ক্রয় করে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালীর দুমকিতে করোনাভা’ইরা’স প্র’তিরো’ধে অঘোষিত লকডাউনের ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও খালের পাড়ে এক ঝুপড়ি ঘরে থাকা অসহায় বৃদ্ধ সোবহানের (৬৭) খোঁজ রাখেনি কেউ। দোকানপাট বন্ধ থাকায় চিড়া-মুড়িও ভাগ্যে জোটেনি তার।
টানা ৩ দিন শুধু পানি পান করেই দিনপার করেছেন তিনি। এর মধ্যে একজন সুহৃদ প্রতিবেশীর দেয়া দুই পিস কেক খেয়েছেন তিনি।

অস’হায় বৃদ্ধ সোবহান হাওলাদার কান্নাজ’ড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবা করোনায় কি করব, না খেয়েই তো ম’রতে হবে। যতদিন শক্তি আছিল, কাম কইরা খাইছি, এখন শক্তিও নেই, খাইতেও পারি না। দোকানপাট খোলা থাকলে মানুষের কাছে চেয়ে খেতাম। করোনার কার’ণে শহরের সব দোকান বন্ধ থাকায় না খেয়েই থাকতে হয়।

তিনি দুঃ’খ করে বলেন, কত ভালো মানুষ কতভাবে সাহায্য পায়, আর আমি না খাইয়া মরি। কেউ আমার খোঁজ নেয় না। এ বিষয়ে শ্রীরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম সালাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের দেয়া তালিকায় সোবহানের নাম না থাকায় খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়নি। তার নামে ১০ কেজি চাল পৌঁছানোর ব্যবস্থা করব।

দুমকি থা’নার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, থা’নার কাছেই এমন মানবেতর অবস্থায় বসবাস করছেন ওই বৃদ্ধ তা আমার জানা ছিল না। যত দ্রুত সম্ভব তাকে সাহায্য-সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

দুমকি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-ইমরান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আজকেই (মঙ্গলবার) সরেজমিন পরিদর্শন করে খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।