মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমিকেরা, খাবারের অভাবে পেঁপে পাতা সিদ্ধ করে খাচ্ছেন



মালয়েশিয়াতে চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ আদেশ জারি হওয়ার পর থেকে বিদেশি শ্রমিকেরা উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে যেতে পারেন না যার ফলে খাবার কিনেও আনতে পারেন না, বেশ কয়েকজন ভয়ে আছেন যে তাদের ঘরে খাবার ফুরিয়ে গেছে, ভয়ানক ক্ষুদার জ্বালার মুখোমুখি হবেন তারা।

সম্প্রতি স্থানীয় একজন লেখক ছবি সহ একটি লেখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি ঘরের বাইরে কাঠের আগুনে পাতিলের মধ্যে পেঁপে পাতা সিদ্ধ করা হচ্ছে খাওয়ার উদ্দেশ্যে। এটি মালয়েশিয়ার একজন সেচ্ছাসেবক কর্মী দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছিল যারা লকডাউনে অসহায় হয়ে পড়া লোকদের খাদ্যা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে৷ তারা দেখেছে যে, বিদেশী শ্রমিকেরা পেঁপে পাতা সিদ্ধ করছেন ক্ষুধা নিবারনের জন্য। সেসময় বিদেশী শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন, যে গত কয়েকদিন যাবত খাবার

হিসেবে শুধু এই পেঁপে পাতাই খেয়ে যাচ্ছেন। ঐ সেচ্ছাসেবী আরও বলেন যে যখন তাদের সাথে কথা হচ্ছিলো তখন তাদের গলার কন্ঠস্বর ছোট হয়ে আসছিলো, তাদের কথা বলতে কষ্ট হচ্ছিলো কারণ তারা বেশ কয়েকদিন মৌলিক খাবার পায়নি। পরে ঐ সেচ্ছাসেবী তার আরেকটি বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করে বাতু পাহাতের একটি সেচ্ছাসেবক ইউনিটকে অবহিত করেন বিষয়টি। কিন্তু তৎক্ষনাৎ তাদের কাছে কোন খাদ্যা না থাকায় ঐ শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে কিছু নগদ টাকা দেয়া হয় ।

মালয়েশিয়ার চাইনিজ গণমাধ্যম ওরিয়েন্টাল ডেইলির একটি সাক্ষাৎকারে জু হুশিয়ান প্রকাশ করেন যে, বিদেশি শ্রমিকদের পেঁপে পাতা সিদ্ধ করে খাওয়ার খবরটি মালয়েশিয়ার সেচ্ছাসেবী সংগঠন “ক্যারেমংগারিন মালয়েশিয়া কমিউনিটি”র সামাজিক সেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে জানা গেছে। ঐ সামাজিক সংগঠনটির বর্তমানে মালয়েশিয়াতে ২৫ টি সেচ্ছাসেবী ইউনিট রয়েছে।

মালয়েশিয়ার চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার এর কারণে বহু গরীব ফ্যামিলির বাসায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে যাদের সাহায্য করার লক্ষ্যে সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।
তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের এই গ্রুপটি বাতু পাহাতের একটি ফ্যাক্টরির বৈধ শ্রমিক। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের অনুযায়ী জানা যায় যে, গত মাসের ২১ তারিখে বেতন দেয়ার পর থেকে তাদের নিয়োগকর্তা বা মালিক তাদের কাউকেই দেখতে আসেনি। পেঁপে পাতা মালয়েশিয়ার ক্ষুদার্তদের খাবারের অন্যতম একটি উপকারী পাতা। আমি

বিশ্বাস করি যে, তারা লকডাউনের কারণে তারা বাইরে যেতে পারেন না, পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারণে দরকারী খাবারও কিনতে পারেনা। কোন খাদ্য না থাকায় পেঁপে পাতা তাদের ক্ষুধা নিবারনের অন্যতম যা কয়েকদিন যাবত খেতে হচ্ছে।সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো বিভিন্ন জায়গায় খাবার সহায়তা দিতে গিয়ে অসহায়দের এসব বাস্তব চিত্র দেখছেন। অনেকেই খাবার কষ্টে রয়েছে। প্রতিদিন রোজগার করা মানুষ গুলোর কোন আয় না থাকায় আরও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছেন। সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অনুযায়ী

সহায়তা করে যাচ্ছেন। আর ক্ষুদার্তদের সাথে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। মালয়েশিয়া জোহর প্রদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় গিয়ে এসব কষ্টের দৃশ্য দেখছেন। বিদেশি শ্রমিকেরাসহ স্থানীয় অনেকেই এই খাদ্যের সংকটে পড়েছেন। কারণ তাদের কাছে জমাকৃত কোন অর্থ নেই।

এদিকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় এসন সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো সাহায্য করতে সবার দরজায় দরজায় যাচ্ছেন। প্রতিটি সেচ্ছাসেবক একেক জন একেক রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের ক্লাং জেলায় আরেকটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রান সহায়তা দিতে গিয়েও অভিবাসীকর্মী ও স্থানীয় মালয়েশিয়ান দের এইসব চিত্র দেখছেন।

সেখানকার ৬০ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশি কর্মী বলেন, লকডাউনের কারণে আমরা বাইরে যেতে পারিনা, উপার্জন করতে পারিনা, খাবার কেনার জন্য যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে, এদিকে লকডাউন আবারও বাড়ানো হয়েছে, সব মিলিয়ে দুঃশ্চিন্তা আমাদের ছাড়েনা। কি পরিমাণ খাবারের কষ্টে আছি অনেক, বুঝাতে পারবোনা। কিন্তু দয়ালু

মালয়েশিয়ানগণ আমাদের এই বিপদের সময় পাশে দাড়িয়েছেন, খাবার দিচ্ছেন, খোজ খবর নিচ্ছেন। এটা আমাদের বড় পাওয়া। ৬০ বছর বয়সী বাংলাদেশী মোঃ শামিম মালয়েশিয়ানদের কে অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। খুবই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি মালয়েশিয়া তে ১২ বছর ধরে জীবীকার তাগিদে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রতিদিনের রোজকার, বা প্রতিমাসের অর্থ বেতন পেয়ে শেষ হতে ১ সপ্তাহও লাগেনা। মালয়েশিয়ার সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। প্রতিদিনের দুই বেলা খাদ্য সহায়তা দেয়া কি সরকার বা সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর দ্বারা সম্ভব হবে? প্রশ্ন রইলো