Breaking News

বিশ্বে রয়েছে ১০০ প্রকারের করোনা ভাইরাস, মাত্র ৭ প্রকারেই বিধ্বস্ত পৃথিবী!

করোনা ভাইরাস নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে। জাতিসংঘ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দ্রুত এর ভ্যাক্সিন তৈরি করতে হবে, না হলে বিশ্বঅর্থনীতি ধ্বং’স হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মানব সভ্যতাও রয়েছে আত’ঙ্কের মধ্যে।

কিন্তু জানেন সারা বিশ্বে কত ধরণের করোনা ভাইরাস রয়েছে। তবে এর মধ্যে ক্ষ’তিকারক কতগুলি সেটাও জানতে হবে। সেই তথ্যই মিলছে বায়োটেকনোলজির একটি গবেষণা সূত্রে।

প্রীতম দাস মূলত বায়োটেকনলজির ছাত্র। পাশাপাশি চালাচ্ছেন গবেষণা। এই ভাইরাস প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘সারাবিশ্বে প্রায় ১০০ প্রকারের করোনা ভাইরাস রয়েছে। কিন্তু এদের মধ্যে সাতটি প্রকার মানব শ’রী’রে ক্ষ’তি করে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

এই সাত প্রকারের মধ্যে আবার চার প্রকার করোনাভাইরাস মাইল্ড কোল্ড বা ঠান্ডা লাগা ও ফ্লু এর মত উপসর্গের সৃষ্টি করে। আর বাকি তিন প্রকার বেশ ক্ষতিকারক হিসেবে বিবেচিত হয়। চার প্রকারের হিউম্যান করোনাভাইরাস রয়েছে। যথাক্রমে : ১) 229E ২) NL63, 3) OC43 ৪) HKU1।

তিনি আরও জানাচ্ছেন , এই করোনা ভাইরাসকে আবার চারটি ভাগে ভাগ কড়া হয়েছে। সেগুলি হল আলফা , বিটা, ডেলটা ও গামা। এদের মধ্যে আলফা ও বিটা ট্রান্সমিট করছে স্ত’ন্যপায়ী প্রা’ণীকে। বর্তমান কোভিড ১৯ বিটা শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।

ডেলটা ও গামা শুধুমাত্র পাখি থেকে পাখির শ’রী’রে ট্রান্সমিট করে। এবার যে তিনটি ভ’য়ঙ্ক’র হয়ে উঠছে সার্স, মার্স, সার্স কোভিড ২।

বেজিং এর একটি বিশ্ববিদ্যালয় ১০৩টি ভাইরাল জিনোম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। তারা জিনোমের দুটি স্থানে বা অঞ্চলে কমন মিউটেশন দেখতে পায়। জিনোমে দুটি অঞ্চলে পার্থক্যের ভিত্তিতে তারা দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। একটি হচ্ছে ‘এল টাইপ ‘ ও অপরটি হলো ‘এস টাইপ ‘।

তারা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন যে এল টাইপ অল্ডার এস টাইপ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। জানা যাচ্ছে এল টাইপ এস টাইপের থেকে অনেক বেশি অ্যাগ্রেসিভ।

আইসিএমআর এর মুখ্য গবেষক ড. রমন আর গঙ্গাখেদকর জানিয়েছেন, বাদুড়ের শ’রী’রে করোনাভাইরাসের মিউটেশন হয়, এরপরই সেটি মানব শ’রী’রে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তিনি আরও জানিয়েছেন বাদুড় থেকে প্যাঙ্গোলিনের সং’ক্রম’ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর প্যাঙ্গোলিন থেকেই ছড়িয়েছে মানুষের শ’রীরে।

করোনা ভাইরাসের উত্‍পত্তি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য। এখনো এই বিষয় নিয়ে চলছে গবেষণা। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এই সংক্রান্ত একটি তথ্য সম্প্রতি সামনে এনেছে। সেখানে বলা হয়েছে চীনের গবেষণা অনুযায়ী এই ভাইরাসের উত্‍পত্তি বাদুড় থেকে।

আইসিএমআর জানাচ্ছে, হয় বাদুড় থেকে সরাসরি মানুষের শ’রীরে সং’ক্রম’ণ হয়েছে এই ভাইরাস। অথবা বাদুড় থেকে প্যাঙ্গোলিনের শ’রী’রে হয়েছে সং’ক্রম’ণ আর সেখান থেকেই এসেছে মানুষের শ’রীরে।

আইসিএমআরের প্রধান গবেষক ড. রমন আর গঙ্গাখেদকর জানিয়েছেন, বাদুড়ের শ’রীরে করোনা ভাইরাসের মিউটেশন হয়। এরপরই সেটি মানব শ’রীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, বাদুড় থেকে প্যাঙ্গোলিনের সং’ক্রম’ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর প্যাঙ্গোলিন থেকেই ছড়িয়েছে মানুষের শ’রীরে। এভাবে ভাইরাসের চরিত্রবদল একটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বাদুড় থেকে মানুষের শ’রীরে করোনা সংক্র’ম’ণের মতো ঘটনা হাজার বছরে একবার ঘটে।

সম্প্রতি আইসিএমআর আরো জানিয়েছে, ভারতে বেশ কয়েকটি বাদুড়ের শ’রীরে পাওয়া গেছে করোনা ভাইরাস। কেরালা, হিমাচলপ্রদেশ, পুদুচেরি ও তামিলনাড়ু ওই বাদুড়ের শ’রীরে ভাইরাস পাওয়া গেছে। যদিও ওই করোনা ভাইরাস ব্যাট করোনাভাইরাস হিসেবেই পরিচিত।

এই ভাইরাস মানব শ’রীরে সং’ক্রম’ণের কোনো আশ’ঙ্কা নেই বলেই জানানো হয়েছে এক গবেষণাপত্রে। ইন্ডিয়ান জার্নাল অব মেডিক্যাল রিসার্চে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।