ত্রাণ চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভোট দিস নি ভিক্ষা করে খা’



খাদ্য সহায়তা না পেয়ে যশোরে বিক্ষোভ করেছে করোনার প্রভাবে কর্মহীন দরিদ্র নারী-পুরুষরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করে। তারা অবিলম্বে খাদ্য সহায়তার দাবি জানান।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সহায়তার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

করোনার প্রভাবে কর্মহীন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। জেলা প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করলেও দরিদ্র মানুষের অভিযোগ, সবার কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না। একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি ও অফিসে গিয়েও খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না অনেকে। খাদ্য সহায়তা না পাওয়া চাঁচড়া ইউনিয়নের পুলেরহাট এলাকার বাসিন্দারা আজ সকালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রায় ৬০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ অভিযোগ করেন, ঘরে একটি দানাও নেই দুই তিন ধরে। কী খাবো? সেকারণে আমরা মেম্বার- চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম খাদ্য সহায়তার জন্যে। কিন্তু তারা আমাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তোমাদের ওয়ার্ডে আমাদের ভোট নেই। ভিক্ষে করে খাওগে।’

অপর এক ভ্যানচালক অভিযোগ করেন, রাস্তায় নামলেই দফাদাররা ভ্যান আটকে দেয়। বাড়ি চলে যেতে বাধ্য করে। আয় রোজগার না হলে কী খেয়ে বাঁচবো! চেয়ারম্যান, মেম্বাররা কিছুই দেয় না। খাদ্য সহায়তা চাইলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়।

এ বিষয়ে চাঁচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বিশ্বাস বলেন, বরাদ্দ যা পেয়েছি তা অপ্রতুল, ফলে অনেক মানুষ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে। সকলকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার মতো সহযোগিতা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পাইনি।

ভোট দিসনি, ভিক্ষে করে খা- এমন কথা বলেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাউজুবিল্লাহ, এমন কথা আমি কখনোই বলিনি। প্রতিপক্ষ লোকজন আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা কথা রটাচ্ছে।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এরপর তারা মাইকিং করে সকলকে ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। এরপরও বিক্ষোভকারীরা পিছু না হটলে তালিকা করে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেবার আশ্বাস দিয়ে সকলকে ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। পরে সকলে সড়ক ছেড়ে ঘরে ফিরে যান।

যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে দুই তিনশ’ লোক উপস্থিত ছিলেন। আমরা চাহিদা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হতদরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছি। যারা এখানে এসেছেন, তারাও গরিব। বিষয়টি আমরা অবহিত হয়েছি। এরপর আমরা সভা করে যত দ্রুত সম্ভব তাদের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।