দাফনে প্রস্তুত করোনায় মৃতদের ওরা ১১ জন



সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ যদি মারা যায় তাহলে তার দাফন ও জানাজার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১১ সদস্যের একটি দল। দলটির পিকআপ ভ্যান, খাটিয়া, জানাজার জন্য ইমাম সাহেব প্রস্তুত।

দাফনের পরবর্তী পর্যায়ে এ দলটির সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য নগরীর কান্দিরপাড়ের স্কাইভিশন নামের একটি আবাসিক হোটেলও তারা ঠিক করে রেখেছে। কুমিল্লা সিটির এই ২৭টি ওয়ার্ডের যে কোন এলাকায় করোনা সংক্রান্ত কারণে কোন ব্যক্তি মারা গেলে সেখানে যাবে দলটির সদস্যরা। অবশ্য মৃত ব্যক্তির স্বজনদের ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের এ কার্যক্রম চলবে।

এ ব্যাপারে বিবেক কুমিল্লার প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, কদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি দেখে খুব খারাপ লাগে। এতে দেখা গেছে, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে তার তিন ভাই কাঁধে করে দাফনের জন্য নিচ্ছিলেন। কেউ লাশ বহনের জন্য খাটিয়া দেয়নি, এমনকি তার দাফনে কেউ এগিয়েও আসেনি। পরবর্তী পর্যায়ে প্রথমে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে এ দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এরপর সংগঠনের নেতাকর্মীদের জানালে তারাও পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ উপলক্ষে তারা একটি পিকআপ ভ্যান, লাশ কবরে নেয়ার জন্য একটি খাট ও জানাজা পড়ার জন্য একটি দল তৈরি করেছেন। প্রথম ব্যক্তিকে দাফনের পর থেকে তারা কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার স্কাইভিশন হোটেলের কক্ষে অবস্থান করবেন। ওই হোটেলের স্বত্বাধিকারী তরিক আহমেদ ভূঁইয়া হোটেলের সব কক্ষ বিনা টাকায় বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান ও ফরিদ গ্রুপের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন মানিক পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুপমেন্ট (পিপিই) দিয়েছেন। বিনা ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স দিবেন আরেক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহসিন মর্তুজা রঞ্জু।

কুমিল্লা নগরের দক্ষিণ চর্থা সৈয়দবাড়ি গ্রামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি হেলাল উদ্দিন জানাজা পড়ানোর জন্য সম্মতি জানিয়েছেন।

এ দলের অন্য সদস্যরা হলেন, মো. রোমান হাসান মো. সাইফুল ইসলাম রনি, মো. মহিউদ্দিন হোসেন, মো. সহিদুল ইসলাম ছোটন এবং বিবেকের সদস্যরা হলেন, মো. মাহমুদুল হাসান, আযহার বাবু, হাবিবুছ ছালেকিন সমাপ্ত, মো. সালেহ আহমেদ, মো. হাদী এবং আসিফ ইকবাল ফারিয়াল। এছাড়া বিবেক সভাপতি নগরীতে জীবানুনাশক ওষুধ ছিটানোসহ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন।