একসঙ্গে ৫ সন্তান জন্ম দিয়ে বিস্ময় সৃষ্টিকারী সেই নারীর করোনায় মৃত্যু



একসঙ্গে ৫ সন্তান জন্ম দিয়ে- একইসঙ্গে ৫ সন্তানকে জন্ম দিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করা এক মা করোনা ভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে প্রা’ণ হারিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীর নাম শাবনাম সাদিক। তিনি বৃটেনের স্লো বোরো কাউন্সিলরের রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন। সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করার সময় তিনি করোনা ভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হন। সেখানে তিনি এক বিয়েতে অংশ নিতে এসেছিলেন। তার সন্তানদের বয়স এখন ১৩ বছর। গত সোমবার তিনি মা’রা যান।

শাবনাম সাদিকের পারিবারিক বন্ধু জানান, দীর্ঘদিন মৃ’ত্যুর সঙ্গে পা’ঞ্জা ল’ড়ে’ছেন শাবনাম। ২৪ দিন ভেন্টিলেটরে তার ফুসফুস চালু রাখা হয়েছে। তার মৃ’ত্যুতে বন্ধু ও স্বজন সবাই ভেঙ্গে পড়েছে। সে ছিল এক অক্লান্ত যো’দ্ধা। ২০০৬ সালের ২৬ জুন শাবনাম একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দেন। এ ঘটনা তখন বিশ্বজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল। তিনি বার্কশায়ারের শিক্ষা ও শিশু বিষয়ক সংস্থার সদস্য ছিলেন।

তার মৃ’ত্যুকে ক’ষ্টদায়ক বলে জানিয়েছেন কাউন্সিল লিডার জেমস সুইন্ডলেহার্স্ট। তার কাউন্সিল ও শহরের জন্য এটি বড় ক্ষ’তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফক্সবোরোর কাউন্সিলর মাধুরি বেদিও তার মৃ’ত্যুতে শোক জানিয়েছেন। তিনি শাবনামের সন্তানদের ও স্বামীকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। বলেন, শাবনাম ছিলেন একজন তরুণ নারী যার কর্মস্পৃহা ছিল বি’স্ময়কর।

করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃ’ত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যাও। বিশ্বের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবেচেয়ে বেশি মানুষ আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে বাড়ছে মৃ’ত্যুর সংখ্যাও।

তবে আ’ক্রা’ন্ত ও মৃ’ত্যুর সংখ্যা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে মৃ’ত্যুর হার কিন্তু ৩.৬ শতাংশ। আর এই হারেই যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৭৮ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। আর আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা চার লাখ ৬১ হাজারের বেশি।

যদিও মৃ’ত্যুর হারের দিক দিয়ে সবার ওপরে রয়েছে ইতালি। সেখানে মৃ’ত্যুর হার ১২.৭ শতাংশ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ২৭৯ জন করোনায় মা’রা গেছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, দেশটিতে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে এক লাখ সাড়ে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ।

জন্স হপকিন্সের ওই তালিকায় ইতালির পরই রয়েছে যুক্তরাজ্যের নাম। দেশটিতে করোনায় মৃ’ত্যুর হার ১২.১ শতাংশ। এ যাবত দেশটিতে সাত হাজার ৯৯৩ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। আর আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ।

স্পেন বা ফ্রান্সের তুলনায় মৃ’ত্যু কম হলেও মৃ’ত্যুর হারের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটিতে করোনায় মৃ’ত্যুর হার ১১ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসে এখনও পর্যন্ত দুই হাজার ৪০৩ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। আর আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে ২১ হাজার ৯০৩ জন।

ফ্রান্সের ম’ত্যুর হার ১০.৩ শতাংশ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক লাখ ১৮ হাজার ৭৮১ জন আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে। আর মৃ’ত্যু হয়েছে ১২ হাজার ২২৮ জনের।

ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি মৃ’ত্যু হওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে স্পেন। সেই স্পেনে মৃ’ত্যুর হার ১০.১ শতাংশ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৫৩ হাজার ২২২ জন করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে। আর মৃ’ত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৪৪৭ জনের।

ইউরোপের আরেক দেশ বেলজিয়ামেও মৃ’ত্যুর হার ১০.১ শতাংশ। সেখানে মৃ’ত্যু হয়েছে দুই হাজার ৫২৩ জন। আর আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৩ জন।

এশীয় অঞ্চলের মধ্যে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃ’ত্যু হয়েছে ইরানে। সেখানে করোনায় মৃ’ত্যুর হার ৬.২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৬৬ হাজার ২২০ জন আ’ক্রা’ন্তের বিপ’রীতে ৪ হাজার ১১০ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসে উৎপত্তি হওয়া চীনে মৃ’ত্যুর হার ছিল ৪ শতাংশ। সেখানে এখন করোনার তা’ণ্ড’ব প্রায় থেমে গেছে। দেশটিতে ৮২ হাজার ৮৮৩ জন করোনায় আ’ক্রা’ন্ত রোগীর বিপ’রীতে ৩ হাজার ৩৩৯ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪২৪ জনের শ’রী’রে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ২৭ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। দেশটিতে করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মৃ’ত্যুর হার ৬.৩ শতাংশ।