সন্ধ্যা ছয়টার পর ঘর থেকে বের হলে আইনানুগ ব্যবস্থা



দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে সন্ধ্যা ছয়টার পর জনগণকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করতে বলা হয়েছে। ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জনগণকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা দিয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

একই সাথে সাধারণ ছুটি ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৪ ও ২৫ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি। সে হিসেবে ছুটির মেয়াদ ২৫ এপ্রিল পর্যন্তই বাড়লো। প্রজ্ঞাপনে ছুটির মেয়াদ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ছে বলেও প্রজ্ঞাপনে পরিষ্কার করা হয়েছে। আর ছুটির সময় সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে সকলকে অনুরোধ করা হল। সন্ধ্যা ছয়টার পর কেউ ঘর থেকে বাইরে বের হতে পারবেন না। এ নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হলো। বিভাগ, জেলা৷ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের জন্য নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির ধারাবাহিকতায় আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল এবং ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘােষণা করা হলাে। সাধারণ ছুটির সাথে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল এবং ২৪ ও ২৫ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি সংযুক্ত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, জরুরি পরিসেবার যেমন, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না। কৃষি পণ্য, সার, কাটিনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচা বাজার, খাবার, ঔষধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতার বাইরে ল থাকবে। জরুরি প্রয়ােজনে অফিস খােলা রাখা যাবে। প্রয়োজন ঔষধ শিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্প কলকারখানা চালু রাখতে পারবে। মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে রিক্সা ভ্যানসহ যানবাহন, রেল, বাস পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটির সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেৰে।

এর আগে গত রোববার ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।